ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়

কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:৫২ পিএম

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের “সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর” পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। ওই পদে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ঘুষের বিনিময়ে এক নারী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাইকোর্টে মো. শাকিল নামে এক প্রার্থী রিট আবেদন করলে ওই প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নিয়োগ পাওয়া ওই প্রার্থী সিরাজুম মুনিরা গত বছরের ২৮ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ওই পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আর আদালতের আদেশর গত দুই বছরেও ওই নির্দেশ মানছেন না পাথরঘাটা স্থানীয় প্রশাসন।

জানতে চাইলে হাইকোর্টের আইনজীবী কাওসার রহমান কাফী বলেন,“আদালত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে মো. শাকিলকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া যিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো আইনগত জটিলতা নেই। তবে এতদিনেও কেন বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি তা অবশ্যই আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল।”

ভুক্তভোগী প্রার্থী মো. শাকিল জানান, ২০২০ সালের ১৫ জুন পাথরঘাটার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হোসাইন মুহম্মদ আল-মুজাহিদের স্বাক্ষরিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে পুনরায় ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে “সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর” পদে শাকিল আবেদন করেন। পরে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি অংশ নেন। ওই পরীক্ষায় লিখিত ৭০ নম্বর, মৌখিক ২০ নম্বর ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তার দাবি, শুধুমাত্র আমি প্রত্যেক বিষয়ে শতকরা ৪০ নম্বরের বেশী পেয়ে মোট ৫২ নম্বর পয়ে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হই। তবে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পাল্টিয়ে তাকে বেশি নাম্বার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৩ নম্বর পেয়ে ফেল করেছেন। তবুও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে জানতে পারি ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ঘুষ বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে ওই পরীক্ষার দুই দিন আগে (২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর) বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। এরপরও ঘুষের বিনিময়ে সিরাজুম মুনিরা নামের এক প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করি। আদালত নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। আর ওই নিয়োগে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবির এ অনিয়ম ও ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে ওই পদে চাকরি বাগিয়ে নিতে জড়িত ছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই, মাত্র আপনার কাছ থেকে শুনলাম পরে পাথরঘাটার ইউএনও এর কাছ থেকে বিষয়টি জানাবো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর