চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামার আগে স্পেনের শক্তিমত্তা ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলা দলটির শক্তির জয়গান গাওয়ার চেয়ে তাদের কোনো দুর্বলতা খুঁজে বের করাই যেন এখন সবচেয়ে বড় কঠিন কাজ। মাঠের প্রতিটি পজিশনে নিখুঁত ফুটবল উপহার দিয়ে আসা স্প্যানিশদের এমন নিখুঁত ফর্ম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য ফাইনালে এক চরম অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময় স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যখন রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলারকে দলে রাখেননি, তখন ফুটবল মহলে বেশ সমালোচনা ও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে কোচ তাঁর রণকৌশলে অটুট থেকে একটি ‘একতাবদ্ধ’ দল গড়ার যে বার্তা দিয়েছিলেন, মাঠের পারফরম্যান্সে তাঁর শিষ্যরা সেই আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিয়েছেন। সমালোচকদের সব ধোঁয়াশা উড়িয়ে দিয়ে লা রোহারা এখন বিশ্বজয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে স্পেনের এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্য রসায়ন উঠে এসেছে।
বর্তমান স্পেনের ২৬ সদস্যের এই শক্তিশালী স্কোয়াডের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনার ব্লক। দলের আটজন ফুটবলারই খেলেন বার্সেলোনায়। এই বার্সা ব্লকের পাশাপাশি ফরাসি ক্লাব পিএসজির ফ্যাবিয়ান রুইজ, স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের অ্যালেক্স বায়েনা, ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা রদ্রি এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের ক্ষুরধার স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ায়ারজাবালের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের উপস্থিতিতে স্পেন দলটিতে এসেছে এক জাদুকরী ভারসাম্য।
বিশেষ করে চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৫টি গোল করে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন মিকেল ওয়ায়ারজাবাল। রবিবারের মেগা ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ ভেঙে গোলের এই ধারা সচল রাখতে পারলে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় নায়ক বনে যাবেন তিনি।
স্পেনের এই স্বপ্নের অভিযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখছে তাদের তরুণ তুর্কিরা। মাঝমাঠ ও আক্রমণে দানি ওলমোর সৃজনশীল পাসিং, উইংয়ে লামিন ইয়ামালের চোখের পলকে ডিফেন্স চেরা গতি এবং রক্ষণভাগে পাউ কুবার্সির ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা দলটিকে অপরাজেয় এক রূপ দিয়েছে। স্পেনের স্কোয়াডের গভীরতা ও ভারসাম্য এতটাই চোখধাঁধানো যে, গত ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক নিকো উইলিয়ামসের মতো তারকাকেও এবার নিয়মিত মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে না। সব মিলিয়ে শক্তির চূড়ায় থাকা এই স্পেনের মুখোমুখি হওয়া আর্জেন্টিনার জন্য হতে যাচ্ছে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় এবং কঠিনতম চ্যালেঞ্জ।