২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনালকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন চরম উত্তেজনা। আগামী রোববারের মহাকাব্যিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের হাতে সোনালি ট্রফিটি তুলে দেবেন স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত ফিফার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফুটবল এবং টুর্নামেন্টের রেকর্ডসংখ্যক দর্শক উপস্থিতি নিয়ে নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি। একই সাথে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর তৈরি হওয়া ফকল্যান্ডস বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
আসন্ন মেগা ফাইনালের আগে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের এই মহাতারকাকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব ফুটবলীয় জ্ঞান প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সেমিফাইনালে মেসির দেওয়া ওই চোখধাঁধানো পাসটি দেখেছি। ফুটবল সম্পর্কে আমি কিছুটা হলেও বুঝি। আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছিলাম যে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ মেসিকে বেশ ভালোভাবেই কড়া মার্কিংয়ে আটকে রেখেছিল, তাই না? আর ঠিক হঠাৎ করেই সে অবিশ্বাস্য গতিতে ডান প্রান্তে চলে গেল, একটি দারুণ শট নিল এবং সেটি গোল হওয়া থেকে মাত্র কোয়ার্টার ইঞ্চি দূরে ছিল। দৃশ্যটি সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।’ এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতির সাথেও ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় হয়। এ সময় এএফএ সভাপতিকে অভিবাদন জানিয়ে ট্রাম্প আগামী রোববারের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে জানতে চান, ‘তোমরা কি আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত?’
এদিকে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবি করে মাঠের ভেতর একটি বিশেষ ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি ও রাজনৈতিক বার্তার কড়া নিয়ম অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল, যার কারণে আলবিসেলেস্তেরা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ফিফার নিয়মের বেড়াজাল থাকলেও হোয়াইট হাউজ কিন্তু ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের এই মত প্রকাশের অধিকারকে পুরোপুরি সমর্থন করেছে। এই বিষয়ে ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি এক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারগুলিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা মাঠের ভেতর যা করেছেন, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের অধিকারের মধ্যেই ছিল।’