শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও আলোচনায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে জেলা বিএনপি নেতা নূরনবী ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে উক্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দলীয় সভাপতি এবং মহিলা দলের নেত্রীদের ইউপি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নগ্ন দলীয়করণ মুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত এবং আসন্ন নির্বাচনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বানচাল করার একটি সুদূরপ্রসারী নীল নকশা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘হাসিনা হটাও’ গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার মূল আকাঙ্ক্ষাই ছিল দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু বর্তমান রূপগঞ্জ ইউনিয়নে সম্পূর্ণ ঢালাওভাবে একটি বিশেষ দলের জেলা পর্যায়ের নেতা, ওয়ার্ড সভাপতি ও মহিলা দল নেত্রীদের সদস্য বানিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। নেতৃবৃন্দের দাবি, পূর্বাচল নতুন শহরের সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকার জটিলতাকে হাতিয়ার করে এই মনোনীত ব্যক্তিরা বছরের পর বছর বিনা ভোটে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে এই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।
ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কর্মপরিষদ সদস্য সহিদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আব্দুল বাছির।
এ সময় রূপগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মোল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য নেয়ামুল কবির জিলান, স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল বারী, আনোয়ার হোসেন, বাবুল মিয়া, মানিক, সাজাহান, মজিবর, আব্দুল আহাদ, আব্দুল্লাহ, নজরুল ইসলাম এবং মনজুর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।