চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটি যে আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, এবারের আয় তা উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এই অভাবনীয় আয় বৃদ্ধির সুখবরটি জানিয়েছেন। আসরের শুরুতে ফিফার পক্ষ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার আগেই সেই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে টুর্নামেন্টের রাজস্ব। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, এবারের আয়ের একটি বিশাল অংশ এসেছে হসপিটালিটি ও টিকিট বিক্রি থেকে। বিশেষ করে চড়া দামের সেকেন্ডারি মার্কেট বা টিকিট পুনঃবিক্রয়ের বাজার থেকে ফিফার কোষাগারে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা হয়েছে। এই বাজারে ফিফা ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ—অর্থাৎ মোট ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ফি কেটে রাখে, যা তাদের মুনাফা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ফিফার এই বর্ধিত আয়ের সরাসরি সুফল পাবে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো। এর ফলে তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বিপুল অর্থের জোয়ারে চাপা পড়ে যাচ্ছে আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা বিতর্ক। বিশ্বকাপের এই আসরটি শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কে ঘেরা থাকলেও, সফলভাবে তা শেষ করার পর এই রেকর্ড আয় সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফুটবলের দুনিয়ায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
নানা সমালোচনা ও বিতর্ক সত্ত্বেও আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে ২০০টিরও বেশি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পকেটে পুরেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড আয়ের পর বাড়তি তহবিল পাওয়ার আশায় অনেক অসন্তুষ্ট অ্যাসোসিয়েশনও এখন প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে, যা ইনফান্তিনোর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে রাজস্বের এমন বিপুল জোয়ার নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিডের জন্য উন্মুক্ত থাকা পরবর্তী বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে ২০৩৮ সালে। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। তবে সেবার আমরা এককভাবে আয়োজক হবো। যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।’ ট্রাম্পের এমন আগ্রহের পাশাপাশি জানা গেছে, ২০২৯ সালের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।