আব্দুল কাইয়ুম খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীর পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলচেষ্টা, পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন, সন্ত্রাসী হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের হীন অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে। ‘অ্যান্টি করাপশন মুভমেন্ট’-এর পরিচালক এবং ‘দৈনিক আকাশ জমিন’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল কাইয়ুম খান এক লিখিত বিবৃতিতে তার ও তার পরিবারের ওপর নেমে আসা এই পৈশাচিক জবরদখল ও আইনি হয়রানির লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেছেন। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার কুখ্যাত পরোয়ানাভুক্ত ফেরারি আসামি রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনির প্রত্যক্ষ ব্লু-প্রিন্ট ও মূল পরিকল্পনায় এই পরিকল্পিত তাণ্ডব চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম খানের লিখিত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ৯:৫০ থেকে ১০:২০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে তার কালীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত ও সরাসরি হামলা চালায়। দীর্ঘ ৩১ বছর যাবৎ মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে পলাতক রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনির অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক শরিফুল ইসলাম খান রতন এবং তার সশস্ত্র সহযোগীরা এই বর্বরোচিত হামলায় অংশ নেয়। সন্ত্রাসীরা বাড়িতে প্রবেশ করে পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিগত যানবাহন ও গাড়ি ভাঙচুরের চরম অপচেষ্টা চালাইয়া ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
এই ভূ-সম্পত্তি গ্রাস ও জবরদখলের সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় নেপথ্য কুশীলব ও আইনি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন বিবাদী পক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী এডভোকেট এনামুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই আইনজীবী সম্পূর্ণ পেশাগত আচরণবিধি (Professional Code of Conduct) লঙ্ঘন করে ভুক্তভোগী বাদী পক্ষকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন। গাজীপুর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় প্রকাশ্যে বাদীকে উদ্দেশ্য করে "আদালতে পুনরায় দেখিলে তিন তলা হইতে লাথি দিয়া নিচে ফেলিয়া দেওয়া হইবে" মর্মে 극ান্তিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকি প্রদান করা হয়। শুধু আদালত চত্বরেই নয়, গত ১৯ জুলাই ভূমি অফিসের সামনে আদালতের বৈধ আদেশনামা ও ডিক্রি জমা দেওয়ার সময় বিবাদী হারুনুর রশিদ খান এবং উক্ত আইনজীবী এডভোকেট এনামুল ইসলাম সশরীরে উপস্থিত থেকে বাদীর গাড়ির গতিপথ রোধ করে এবং গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাদী পক্ষের আইনজীবীদেরও প্রভাবিত করার নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এই বিতর্কিত আইনজীবী।
তদুপরি, এই প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও কুৎসিত ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। উক্ত সাজানো মামলার ফাঁদে ফেলে এবং একটি রহস্যজনক সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব একলাশ উদ্দিন সাহেবের আদালতের আদেশে আব্দুল কাইয়ুম খানকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দীর্ঘ ৯ দিন গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এই মিথ্যা মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে এক চরম আইনি অসঙ্গতি ও জালিয়াতির চিত্র ফুটে ওঠে; যেখানে জিডির তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২রা মে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ, অথচ কল্পিত অপরাধের ঘটনাস্থল ও সময় দেখানো হয়েছে তারও এক বছর পর অর্থাৎ ২৯শে এপ্রিল ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে! মামলার শুনানির দিন খোদ বাদীই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার হীন উদ্দেশ্যে জনৈক পর্দানশীল নারী, যিনি সম্পর্কে বাদীর ছোট বোনের মতো ও আপন চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী, তার চরিত্রের ওপর জঘন্য অপবাদ দিয়ে এই মিথ্যা ও কলঙ্কজনক মামলাটি রুজু করা হয়েছিল।
অথচ বিতর্কিত ও বিরোধপূর্ণ উক্ত সম্পত্তির যাবতীয় বৈধ মালিকানা, মূল দলিল, হালনাগাদ নামজারি (মিউটেশন) এবং সরকারের অনুকূলে পরিশোধিত ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার দাখিলা কেবলমাত্র ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম খানের নামেই আইনগতভাবে বলবৎ ও সম্পাদিত রয়েছে। সমস্ত আইনি নথিপত্র সঠিক ও নিষ্কণ্টক থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে জোরপূর্বক ভূমি দখলের এই অবৈধ উন্মাদনা অব্যাহত রয়েছে। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে কালীগঞ্জের মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জমিতে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং বাদীর দাখিলকৃত সকল নথিপত্র ও মালিকানা শতভাগ সত্য ও আইনসম্মত বলে প্রত্যয়ন করেন। উল্লেখ্য, এই তদন্ত কার্য চলাকালীন প্রধান ষড়যন্ত্রকারী রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া রনি হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ফেরারি আসামি হওয়ায় প্রশাসনের ভয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সাহস পায়নি। তবে তদন্তের পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম খান রতন পুনরায় ভুক্তভোগীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের পৈশাচিক চেষ্টা চালায়।
এমতাবস্থায়, একজন পেশাদার আইনজীবীর এমন চরম অপেশাদার, অনৈতিক এবং দণ্ডণীয় অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রীর নিকট সুনির্দিষ্ট আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম খান। একই সাথে, কালীগঞ্জের বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাদক নির্মূলে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করলেও, সুনির্দিষ্ট ও বারবার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কেন কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী শরিফুল ইসলাম খান রতনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমাজ, যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার বৃহত্তর স্বার্থে এই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট বিশেষ ও জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর