চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে হামলায় ব্যবহৃত ৪টি মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) নগরের চান্দগাঁওয়ে অবস্থিত র্যাব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম. মোজাফ্ফর হোসেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সন্ত্রাসী মহলে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানানো হলে তার ঠিক দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৩ জুলাই, ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
র্যাব আরও জানায়, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা সেন্ট্রাল কম্পিউটার, ইন্টারনেট সার্ভার মনিটর, ল্যাপটপ এবং অফিসিয়াল আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জামাদি ভেঙে গুঁড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে কর্মচারীদের মাসিক বেতন পরিশোধের উদ্দেশ্যে অফিসে গচ্ছিত রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লকার থেকে লুট করে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, এই পৈশাচিক হামলায় রোহেন মিয়াসহ তিনজন মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তাঁদের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে হামলাকারীরা তিনটি সুসংগঠিত দলে বিভক্ত হয়ে এই ক্রাইম অপারেশন পরিচালনা করে। একটি দল বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ (রেকি) করছিল। দ্বিতীয় দল ভবনের বাইরে পাহারা দিতে অবস্থান নেয় এবং তৃতীয় দলটি সরাসরি ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও সর্বস্ব লুটপাট চালায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে প্রথমে চারজন চিহ্নিত অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে হামলায় সরাসরি ব্যবহৃত চারটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—রোহেন মিয়া, মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আবদুল মুমিন (৩০), মো. মাসুদ মিয়া (২৭), মো. দিদার Mিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও অন্যান্য উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ নজিরবিহীন ঘটনায় ডিডিএনের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে একটি ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এর আগে, একই ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে গত ১৫ জুলাই আরও আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র্যাব জানিয়েছে, নতুন করে গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনকে সংশ্লিষ্ট চকবাজার থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রধান পরিকল্পনাকারী ডেভিড ইমনসহ পলাতক অন্য অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।