ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দুমকির ৪৪টি স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:৪৪ পিএম

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  :

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলার মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৭১ শতাংশই দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। দুমকির মোট ৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪টিতেই প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য থাকায় সামগ্রিক শিক্ষা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হলেও, একসঙ্গে নিয়মিত পাঠদান ও বাড়তি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকরা পুরোপুরি হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এই উপজেলায় মাত্র ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রধান শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে ১৯টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ২৫টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক এই শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষকদের দৈনন্দিন তদারকি, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সরকারের জরুরি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নানামুখী দাপ্তরিক কার্যক্রমে তীব্র প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থবিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে ফাইলপত্র সামলানোসহ নানা জটিল প্রশাসনিক দায়িত্বও কাঁধে নিতে হচ্ছে। এতে তারা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দিতে পারছেন না। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বাৎসরিক ও মাসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, হিসাব-নিকাশ রক্ষা, অভিভাবকদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বাড়তি চাপের প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার গুণগত মানের ওপরও পড়ছে বলে তারা গভীরভাবে মনে করেন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহলের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার স্বার্থে দ্রুত এই শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, স্থায়ীভাবে যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেলে বিদ্যালয়গুলোর ভেঙে পড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা যেমন ফিরে আসবে, তেমনি শিক্ষকদের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং পড়াশোনার উপযোগী সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলিন চন্দ্র দেবনাথ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বর্তমানে প্রধান শিক্ষক শূন্য থাকা পদগুলোতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। তবে আমরাও মানি যে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও অনেক বেশি গতিশীল হবে এবং একই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের আশানুরূপ মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধান শিক্ষক। তাই দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে এই পদটি শূন্য পড়ে থাকায় সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শূন্য পদগুলো পূরণে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হলে দুমকির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল, প্রাণবন্ত ও মানসম্মত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর