২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসরের ফুটবল আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর তিন দেশে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আয়োজকদের চলাচলও ছিল ব্যাপক। আর এই সময় সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনো প্রায় ৯৩ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন। এপি-এর হিসাবে শুধু উত্তর আমেরিকাজুড়ে তার সফরের দূরত্ব ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ৪০৩ কিলোমিটার। এই দূরত্ব পৃথিবীকে প্রায় দুইবার প্রদক্ষিণ করার সমান।
বিশ্বকাপের ৩৯ দিনে ইনফান্তিনো প্রায় ১১৫ ঘণ্টা আকাশপথে কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি ২১টি বিমানবন্দর ব্যবহার করেন এবং টুর্নামেন্টের ১৬টি ভেন্যুর প্রতিটিতে অন্তত একটি করে ম্যাচ দেখেন। সব মিলিয়ে তিনি ৪৪টি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ দিন একই দিনে দুটি করে ম্যাচ দেখার জন্য ভ্রমণ করতে হয়েছে তাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পুরো সফরে ইনফান্তিনো কাতার এয়ারওয়েস পরিচালিত গালফস্ট্রিম জি৬৫০ ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করেন। বিমানটি কাতার সরকারের বহরের অন্তর্ভুক্ত এবং এর ব্যয় বহন করেছে ফিফা।
এই ভ্রমণে শুধু জ্বালানি খরচ হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২১ দশমিক ৬৬ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ইনফান্তিনোর এই আকাশ ভ্রমণের ফলে প্রায় ৭০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নিঃসরণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ গড়ে প্রায় ৪০ জন মার্কিন নাগরিকের এক বছরের কার্বন নিঃসরণের সমান।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন ছিল ২৬ জুন। ওই দিনে তিনি প্রায় ৫ হাজার ৭৭২ মাইল বা প্রায় ৯ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার আকাশপথে ভ্রমণ করেন।
এ ছাড়া কাতারের সাবেক আমিরের জানাজায় অংশ নিতে দোহা সফরের জন্য তাকে অতিরিক্ত প্রায় ২৯ ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়। তবে এই ভ্রমণ হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ইনফান্তিনোর এই ব্যাপক ভ্রমণ নতুন করে পরিবেশগত বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম থেকে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমন অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
পরিবেশবিদদের একাংশ মনে করছেন, ফিফার পরিবেশবান্ধব লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের কারণে সংস্থার পরিবেশ প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে এপি।