বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
নিহত উচ্ছ্বাস কর্মকার বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, লাশ উদ্ধারের অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মেসের অন্যান্য বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই উচ্ছ্বাসের কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ বা তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। মঙ্গলবার রাতের দিকে ওই ঘর থেকে আশপাশে পচা ও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মেসে থাকা অন্যদের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। বিষয়টি কালবিলম্ব না করে পুলিশে অবহিত করা হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিংয়ের সাথে উচ্ছ্বাসের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায়।
এই মর্মান্তিক খবর চাউর হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত ওই মেসে জড়ো হতে থাকেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, খবর পাওয়ামাত্রই প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে।
প্রাথমিক আলামত দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল জানান, লাশের বর্তমান অবস্থা ও পচন দেখে অনুমিত হচ্ছে যে অন্তত দুই দিন পূর্বে তাঁর মৃত্যু ঘটেছিল। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।