ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

জাবি মেডিকেল সেন্টার থেকে ২১ দিনে গায়েব ৭৩ হাজার টাকার ওষুধ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১:১৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ হওয়া এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সূত্র মারফত জানা যায়, ১ জুলাই মেডিকেল সেন্টারের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন ওষুধ কেনা হয়েছিল, যার মধ্যে শুধু 'অ্যালাট্রল' ট্যাবলেটের সংখ্যাই ছিল ৯ হাজার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে এই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্য আসায় কেনাকাটা কমিটির সদস্যদের মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় স্টোরের আসল মজুদ যাচাইয়ের জন্য অভিযান চালানো হয়। এই ঝটিকা পরিদর্শক দলে ছিলেন অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক। রেজিস্টার খাতা ও বাস্তব স্টোর মিলিয়ে তারা ব্যাপক অসামঞ্জস্য প্রত্যক্ষ করেন।

তদন্তে যেসব বড় বড় ওষুধের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে এলাট্রল ৪,৬৪৫টি, এজিথ্রোমাইসিন ৯১২টি, সিপ্রোসিন ৪২০টি, প্যারাসিটামল ৫,০০০টি, টাইমোনিয়াম ৭০০টি, ফ্যামোটিডিন ২,৫০০টি, এন্টানিল ২০০টি, ন্যাপ্রো ৯৯০টি এবং ডমপেরিডন ৪,২০০টি। এছাড়া রেজিস্টার অনুযায়ী ডমপেরিডোন ৫,৮০০ পিস থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ১,৬০০ পিস। সব মিলিয়ে মোট ১৯,৫৬৭টি ওষুধের ঘাটতি পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রে ওষুধের এমন অনিয়ম চলে আসছিল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নূর-এ-কামাল অনিয়মের বিষয়টি মেনে নিয়ে বলেন, "স্টোরের চাবি কেবল আমার কাছেই সংরক্ষিত থাকে এবং সব ওষুধ আমি নিজেই বিতরণ করি। কিন্তু কীভাবে এই বিশাল ঘাটতি তৈরি হলো তা আমার বোধগম্য নয়, প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যেতে পারে।" অন্যদিকে চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান জানান, স্টোরের চাবি তাঁর কাছে থাকে না বিধায় এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রারই ভালো বলতে পারবেন। ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম জানান, রেজিস্টারের সাথে বাস্তব মজুদের বড় গরমিল পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অন্যদিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে বারংবার ওষুধ না থাকার অভিযোগ পেয়েই তিনি এই ঝটিকা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর