দুপুর ১২টার দিকে শ্যামনগর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধির আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাদের হতাশ করেছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিলেও এখন তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করেন এবং মাননীয় স্পিকারের কাছে তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, জনগণ একজন জনপ্রতিনিধির কাছে যে প্রত্যাশা করেছিল, তা ভেঙে গেছে। শ্যামনগরের মানুষের সম্মান রক্ষায় ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নাগরিক নেতা আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর শোনা যায়নি। এরপর সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক এলাহি মুন্না, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।