উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 18
রাজশাহী প্রতিনিধি:
ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করে দ্রুত, সহজলভ্য ও সমন্বিত সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। তিনি বলেছেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য হলো সেবা নিতে আসা প্রতিটি ভুক্তভোগীর পাশে মানবিকভাবে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের স্টিয়ারিং কমিটির ২৮তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান সেবার মান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য আরও কার্যকর, সমন্বিত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আগত প্রত্যেক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা ভিকটিম সাপোর্ট কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। সেবার মানোন্নয়ন, ভুক্তভোগীদের সহজে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম (পিপিএম) এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) হিসেবে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আরএমপির আওতাধীন সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ে ভিকটিম সাপোর্ট কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হিসেবে মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি), মেরী স্টোপস বাংলাদেশ, ইউসেপ, ওলার এবং সিএমএম কোর্ট–এর প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা ভুক্তভোগীদের আইনি, সামাজিক ও মানসিক সহায়তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
সভার শেষে ভিকটিম সাপোর্ট কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত, সেবামুখী ও কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ভুক্তভোগীদের জন্য উন্নত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।