নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দোকান-ঘরের ভাড়া বকেয়া থাকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকার একটি মার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করেন। ওই কার্যালয় থেকেই দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক শাহীন আকন্দের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাতের কোনো এক সময় বিএনপি কার্যালয়ের পুরোনো তালা খুলে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শাহীন আকন্দের লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীন আকন্দ।
দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক শাহীন আকন্দ বলেন, ‘দলীয় অফিসে তালা আমি দেইনি। মার্কেটের মালিক জাইদুল আকন্দ বকেয়া টাকা না দেওয়ায় তালা দিয়েছেন। আমি শুধু বলেছি, ঘর ভাড়া দেওয়া বা না দেওয়া মালিকের বিষয়। প্রয়োজনে অফিসের দুটি তালা ভেঙে বিএনপির অফিসে বসতে বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু বিএনপির দলীয় অফিসে তালা দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। বিষয়টি শুনেছি। পুরো ঘটনা জেনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, দলীয় কার্যালয় একটি সাংগঠনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। দ্রুত বিষয়টির সমাধান করে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে দোকান-ঘরের বকেয়া ভাড়া এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।