বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজ দেশে ফিরে জমকালো সংবর্ধনা, রাষ্ট্রীয় পদক বা অতি মূল্যবান উপহার পাওয়ার প্রত্যাশা করাটা যেকোনো অ্যাথলেটের জন্যই স্বাভাবিক। তবে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দুই তারকা মিডফিল্ডার গাভি এবং ফাবিয়ান রুইজ নিজ শহরে ফিরে পেয়েছেন একেবারেই ব্যতিক্রমী ও অভূতপূর্ব এক উপহার—নিজের শরীরের ওজনের সমপরিমাণ টমেটো!
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ফুটবল দলের এই দুই তরুণ তারকাকে তাঁদের নিজ শহরে আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সম্মাননা হিসেবে এই সমপরিমাণ টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছে। এলাকার স্থানীয় কৃষি ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও কৃষকদের অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতেই মূলত এই অনন্য ও ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল দেশে ফিরে প্রথমে রাজধানী মাদ্রিদে লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী মানুষের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এরপর নিজ নিজ জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ছোট্ট ও মনোরম শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা তাঁদের জন্ম নেওয়া দুই বিশ্বজয়ী সন্তান গাভি ও রুইজকে বরণ করে নিয়েছে শহরের সবচেয়ে বড় গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত টমেটো উপহার দিয়ে।
স্থানীয় সিটি কাউন্সিলের সরাসরি আয়োজনে ওই সংবর্ধনা মঞ্চেই দুই ফুটবলারকে প্রথমে একটি বিশালাকার ওজন মাপার যন্ত্রে দাঁড় করানো হয়। এরপর তাদের শরীরে থাকা নিখুঁত ওজনের হিসাব অনুযায়ী হাতে তুলে দেওয়া হয় ঠিক সমপরিমাণ তাজা টমেটো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, দুই ফুটবলার মিলে সার্বিকভাবে পেয়েছেন প্রায় ১৪০ কেজি টমেটো।
তবে কেবল এই কৃষিজাত উপহার দিয়েই তাঁদের সম্মাননা শেষ করা হয়নি। শহরের দুটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে এই দুই তারকার নামে নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মারিসমাস স্টেডিয়ামের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ফাবিয়ান রুইজ’ এবং সান সেবাস্তিয়ান স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘পাবলো পায়েস গাভিরা (গাভি)’। উল্লেখ্য, এই দুই স্টেডিয়ামেই শৈশবে প্রথম ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁদের।
লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কায় বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে এভাবে সম্মান জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১০ সালে স্পেন যখন প্রথম বিশ্বকাপ জয় করে, তখনো এই অঞ্চলেরই সন্তান হেসুস নাভাসকে একই কায়দায় শরীরের ওজনের সমান টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছিল। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুইজ ও গাভির নামে স্টেডিয়ামের নাম রাখার পাশাপাশি পূর্ববর্তী বিশ্বজয়ী ফুটবলার নাভাসের স্মরণে শহরে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা মূলত সমগ্র স্পেনের অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত টমেটো উৎপাদনকারী কৃষি এলাকা। সেখানকার বিশেষ ‘বোম্বোন কোলোরাও’ জাতের টমেটো স্থানীয় লোকজ পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি বিখ্যাত লা টোমাটিনা উৎসবের মতো টমেটো ছোড়াছুড়ির কোনো আয়োজন নয়, বরং কৃষিভিত্তিক স্বকীয় ঐতিহ্য উদযাপনেরই এক ভিন্নধর্মী নিদর্শন।