ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা চান না ভুক্তভোগী গাভি, বললেন 'এসব ফুটবলেরই অংশ'


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:১৬ এএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপানির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজয়ী দল স্পেনের উদীয়মান মিডফিল্ডার গাভি। মাঠে চরম উত্তেজনার মাঝে সংঘাতের ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেও প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠজুড়ে যখন উল্লাস চলছিল, তখন দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে হুট করেই বাকবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস ছাড়াও আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে সরাসরি জড়িত থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ম্যাচ নথির বরাতে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার একপর্যায়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলায় হাত দিয়ে শক্ত ধাক্কা মারেন। ওই সময় স্পেনের বেঞ্চে থাকা তরুণ তারকা গাভি দৌড়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আর্জেন্টিনা তারকা থিয়াগো আলমাদা তাকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে দেন। একই সময়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেসও নিজের হাত গাভির মুখের ওপর ঠেলে দিয়ে বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকে টেনে মাটিতে ফেলে দেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে ইতোমধ্যে একজন বিশেষ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলার কিংবা কোচ বড় ধরনের ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। এর পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

পুরো ঘটনা নিয়ে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পার্তিদাসো দে কোপেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভি তাঁর উদার মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, 'আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় না এই ঘটনার জন্য পারেদেসকে পরবর্তীতে কোনো ম্যাচ নিষিদ্ধ করা উচিত।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি বুঝি, টিভিতে এমন দৃশ্য দেখা শিশুদের জন্য ভালো কোনো বার্তা বা উদাহরণ নয়। কিন্তু ফুটবলের মতো খেলায় শারীরিক লড়াই ও কিছুটা আগ্রাসন চলেই আসে, এটাই ফুটবলের একটি স্বাভাবিক দিক।'

গাভি তাঁর মতামত তুলে ধরে আরও বলেন, 'সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতো যদি রেফারি ম্যাচ চলাকালীন বা তৎক্ষণাৎ মাঠেই তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিতেন। তাহলে বিষয়টি মাঠেই শেষ হয়ে যেত। দিনশেষে আমি মনে করি, এই ধরনের উত্তেজনা ফুটবলেরই একটি অংশ এবং এটি সবসময়ই থাকবে।'

উল্লেখ্য, ফাইনালের পরপরই ফিফার ধারাভাষ্যকারদের ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থায় ভুলবশত প্রচার করা হয়েছিল যে—এরিক গার্সিয়াকে গলায় ধাক্কা দেওয়ার দায়ে ম্যাচ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই তথ্য তাদের সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা হয়। পরে বিবিসি স্পোর্টকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ফিফা নিশ্চিত করেছে, ম্যাচ চলাকালীন বা শেষে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনার আরেক মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর