বিশ্বকাপ চলাকালেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরুর তথ্য জানিয়েছিল স্প্যানিশ ক্রীড়া মাধ্যম মার্কা। তবে সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে ও ক্লারিন দাবি করে, তাপিয়াসহ এএফএ-র কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই জোর গুঞ্জন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এএফএ।
আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রধানকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এফবিআই সদস্যরা আকস্মিক অভিযান চালায়। মূলত এএফএ-র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও কাঠামো নিশ্চিত করতেই এই তদন্ত পরিচালিত হয়। এ সময় বিচারে নিয়োজিত কর্মকর্তারা তাপিয়া ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা মূলত ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত 'ট্যুরপ্রডএন্টার' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ লেনদেনের বিষদ তথ্য চেয়েছেন। ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনির মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পন্সরশিপ চুক্তি, প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির মূল বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে।
সংবাদমাধ্যম ক্লারিনের অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিভিন্ন স্পন্সরদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করে মায়ামির ব্যাংকে জমার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু এএফএ তাদের অফিশিয়াল আর্থিক বিবরণীতে সেই বিশাল অর্থ এখন পর্যন্ত প্রদর্শন করেনি। পাশাপাশি আরও কিছু আর্থিক অসংগতির বিষয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই চাঞ্চল্যকর খবর নিয়ে চরম আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে দ্রুত বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এএফএ। তারা সংবাদমাধ্যমের দাবি পুরোপুরি নাকচ করে জানায়, সংবাদমাধ্যমে যে আইনি নথির কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া কিংবা সংস্থার কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর ওপর জারি করা কোনো অফিসিয়াল সমন নয়।
বিবৃতিতে এএফএ উল্লেখ করে, ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সমনটি আসলে একটি ‘তৃতীয় পক্ষের’ উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে। সেখানে এএফএ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে থাকা কেবল কিছু প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে তাপিয়া বা তোভিগিনোকে ব্যক্তি হিসেবে আদালতে তলব করা কিংবা তাদের ব্যবহৃত ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আর্জেন্টাইন ফেডারেশন স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ওই আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ কিংবা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাদের আদালতে হাজিরা দেওয়া বা কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশনা নেই। ফলে সংস্থা ও কর্মকর্তাদের মানহানি ঘটে এমন বিভ্রান্তিকর খবর প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।