কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় নিজ বাড়ির কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জানাজার নামাজ শেষে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত দুলাল মিয়া ফেকামারা গ্রামের আব্দুর রাশিদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে দেশে ফিরে নিজ জন্মভূমিতে কৃষিকাজে যুক্ত হন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ির একটি কাঁঠাল গাছ থেকে ফল পাড়ার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন দুলাল মিয়া। গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডে টানা এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার এবং পুরো ফেকামারা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একনজর দেখতে এলাকার শত শত মানুষ নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান। মৃতের ছেলে সাইফুল ইসলাম সুজন বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও উপস্থিত সবার কাছে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, অসাবধানতাবশত গাছ থেকে পড়ে গিয়ে আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা ভাবতেও পারিনি সাধারণ একটি দুর্ঘটনা এভাবে আমাদের অভিভাবক কেড়ে নেবে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক এই দুঃখজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গাছ থেকে পড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আজ জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এদিকে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়েছেন।