মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৫ নম্বর আন্দিউড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনে অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্দিউড়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আন্দিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম। পুরো কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক এখলাছুর রহমান সিরাজী। মানববন্ধনে বক্তারা বিদ্যালয়টির বর্তমান এডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং একে সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মনীতি বহির্ভূত বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফজলে ইমাম সুমন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পর্দার আড়াল থেকে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পকেট কমিটি গঠন করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এছাড়া মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন আন্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সাদেক মিয়া, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আব্দুল হামিদ চৌধুরী, উবায়দুল্লাহ, শেখ শামীম রেজবী, আব্দুল হামিদ সরদার, আবুল কাসেম, জাহানারা বেগম এবং মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারীসহ শত শত অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা সম্মিলিতভাবে অভিযোগ করেন, বর্তমান এডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিতর্কিত কমিটি অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এই অনিয়মের নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায়, এলাকার ছাত্র-জনতা ও অভিভাবকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।