ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

গাজীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল: ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ৪ সদস্য আটক


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:৫০ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রেম ও সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ চার সদস্যকে আটক করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া নারী সদস্য পাপিয়া, তাঁর স্বামী সজীব এবং সহযোগী সুমু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাঁদের নির্জন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এরপর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করাই ছিল চক্রটির মূল কৌশল।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী সায়মন নামে এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পাপিয়ার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাপিয়া ফোন করে সায়মনকে বিশ্বাসপাড়া এলাকার মদিনা নামে একটি ভবনের সপ্তম তলায় নিজের কক্ষে ডেকে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, কক্ষে প্রবেশের পরপরই দরজা বন্ধ করে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী সজীব মিলে সায়মনকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে সায়মন কৌশলে বারান্দায় গিয়ে নিজেকে আটকে রেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এ সময় পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে সজীব উল্টো সায়মনের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করে। এ সময় সজীবের কাছ থেকে পুলিশের একটি হ্যান্ডকাফ এবং পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত একটি কটি উদ্ধার করা হয়।

পরে আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একই ধরনের প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য এবং বিভিন্ন আপত্তিকর আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। একই সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর