শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ এবং এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আন্তরিক উদ্যোগের ফলে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিক নিজেদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল ঠিক ৫টায় শিবগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের শুভ পরিচালনায় ও আয়োজনে অনুষ্ঠিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও পরম শান্তি কামনায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে অংশ নিয়ে তিনি এ বৈচিত্র্যময় বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন যে, “আমাদের মূল নীতি হলো—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক সহনশীলতা এবং দৃঢ় সম্প্রীতির ভিত্তির ওপর ভর করেই কেবল একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও অর্থবহ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান বিশ্বমানের জনবান্ধব সরকার দেশের প্রতিটি কোণের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীন অধিকার এবং তাঁদের পবিত্র উপাসনালয়গুলোর সর্বোচ্চ স্তরের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত অগ্রাধিকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”
শিবগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী এই উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব ও বিশ্বশান্তির প্রার্থনামূলক বর্ণাঢ্য শুভ মঙ্গল শোভাযাত্রায় এলাকার সর্বস্তরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সনাতন ধর্মাবলম্বী অসংখ্য শ্রদ্ধাবান ভক্তবৃন্দ, স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে অত্যন্ত উদ্দীপনার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকে সফল করে তোলেন। মীর শাহে আলম এমপি তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যকার গভীর ঐক্যের বন্দনা করেন এবং নিশ্চিত করেন যে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে কোনো বৈষম্যের ঠাঁই থাকবে না।
তিনি জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে রাষ্ট্রীয় চেতনা এবং ঐতিহ্যগত ভ্রাতৃত্বের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে সম্প্রীতির অনন্য রোল মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। পুরো আয়োজনজুড়ে বক্তারা সহমর্মিতা, ধর্মনিরপেক্ষ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিকে জোরদার করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।