লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনগাথা এবার উঠে আসছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিকড়ের সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অনুষ্ঠানটির নতুন পর্ব ধারণ করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শতবর্ষী দালাল বাজার জমিদারবাড়ির স্মৃতিবাহী নবীন কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।
আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে লক্ষ্মীপুর পর্বটি।
নব্বইয়ের দশক থেকে স্টুডিওর বাইরে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানগুলোতে ‘ইত্যাদি’ ধারণের ধারাবাহিকতা চলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান ধারণকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই নবীন কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণ দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে অনেক মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে উপস্থিত হন।
ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় অনেকে আশপাশের ভবনের ছাদ, প্রাচীর, সড়ক ও গাছের ডালে অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমও দর্শকদের আগ্রহে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
লক্ষ্মীপুর পর্বে থাকছে জেলাকে নিয়ে দুটি বিশেষ গান। এর মধ্যে একটি গান গেয়েছেন লক্ষ্মীপুরের শিল্পী তানজিনা রুমা ও ফেনীর শিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। কবির বকুলের কথায় গানটির সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরের পরিচিতিমূলক নৃত্যগীতের কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান পলাশ। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে পরিবেশিত এই গানে স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা অংশ নিয়েছেন এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে।
দর্শক পর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চারজন দর্শক নির্বাচিত হন। পরে তারা লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান ও বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয়ে অংশ নেন।
পর্বটির বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী এবং লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান নিশাত মজুমদারের সাক্ষাৎকার। এতে তিনি এভারেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতা এবং ‘ইত্যাদি’ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটনের সম্ভাবনা, বিস্তীর্ণ সয়াবিনের মাঠ, নারিকেল ও সুপারিবাগান এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন রয়েছে।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এক মাঝির জীবনসংগ্রাম নিয়েও থাকছে দুটি আলাদা প্রতিবেদন।
বিদেশি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় উপকূলীয় সড়ক ‘গ্রেট ওশান রোড’ এবং এর ইতিহাস। পাশাপাশি থাকবে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির আলাপ, নিয়মিত ‘চিঠিপত্র’ পর্ব এবং সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গধর্মী নাট্যাংশ।
অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। এটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।