ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৫


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:৩০ পিএম

সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব ও উপদ্রব। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে দেশের এই সার্বিক হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যালোচানামূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ল্যাব নিশ্চিত হামে কোনো রোগীর সরাসরি মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ের মধ্যে সারা দেশে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত রোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১০৫ জন।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৩০ জন শিশুর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে গত চার মাসেরও বেশি সময়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট ৮২৫ শিশুর করুণ মৃত্যু ঘটলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫ জন। আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন আক্রান্ত শিশু চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশু স্বাস্থ্যের ওপর হামের এমন প্রকোপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুষ্টিহীনতা, যথাসময়ে টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে শিশুরা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো এবং শিশুদের সরকারি টিকা কর্মসূচির আওতায় এনে নিয়মিত হামের টিকা প্রদানের ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও দেশজুড়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর