কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / : 71
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইদ্রিস আলীকে ঘিরে বাদী ও বিবাদী পক্ষ পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার এবং বিচারাধীন মামলার তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) নাগেশ্বরী থানা গেট ও উপজেলা চত্বরে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিবাদী পক্ষ এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে একই স্থানে বাদী পক্ষ প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিবাদী পক্ষের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।
জানা গেছে, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কুমরিয়ারপাড় (মাদাইখাল) গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী ইদ্রিস আলীর ছেলে এমদাদুল হক, আমিনুর রহমান এবং আবুল কাসেমের ছেলে শামছুল হকসহ অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বাদী পক্ষের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রায় দুই একর জমিতে চাষাবাদে বাধা, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তাদের দাবি, গত ২ মে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে প্রতিপক্ষ প্রায় ৯০টি গাছ কেটে নেয় এবং পাটক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বাদী পক্ষের ভাষ্য, তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে। তাঁদের দাবি, গাছ কাটার ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে উপস্থাপন করা যাবে।
নাগেশ্বরী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগেই বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত ২৩ জুলাই বিবাদী পক্ষের চারজন আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ ২৫ জুলাই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং ২৬ জুলাই তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে। পরে তাঁরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই তাঁরা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।