নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে পৌর এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা আদেশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৪৪ ধারা কার্যকর থাকাকালে সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে আইন মেনে চলার এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল চত্বরে এনসিপির পূর্বঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
এনসিপির দাবি, হামলায় অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হন। হামলাকারীরা গাড়ি থামিয়ে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় ঘটনাস্থলের ছবি তুলতে গেলে একজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের শীর্ষ নেতারা পাশের সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জ প্রধান কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের সমালোচনামূলক বক্তব্যের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে তারা দাবি করেন।
পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না এবং স্থানীয়ভাবে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। বিচার ও সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
হামলার জন্য ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তার দাবি, হামলায় একজন কর্মীর চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একজন নেতার হাত ভেঙে গেছে এবং তিনিও আহত হয়েছেন। ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক ও অশালীন মন্তব্য করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এ পদক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।