ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬,  ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়ার ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিতের প্রত্যয় তিন মন্ত্রীর আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ মতিঝিল ও সাভারে আইইডি উদ্ধারে বিদেশি অর্থায়নের ছায়া, সন্ধানে গোয়েন্দারা মতিঝিল ও সাভারে আইইডি উদ্ধারে বিদেশি অর্থায়নের ছায়া, সন্ধানে গোয়েন্দারা রবিবার কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনের ওপর ১০০% শুল্কের মার্কিন বিল পাস রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক: মার্কিন সিনেটে বিল পাস ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অর্থঋণ আইনে ব্যাংকের নিলাম চ্যালেঞ্জ করে রিট গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:১৮ এএম

অর্থঋণ আদালত আইনের অধীনে ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সরাসরি রিট আবেদন করার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, অর্থঋণ আদালত আইনের ১২(৩) ধারার অধীনে শুরু হওয়া কোনো নিলাম প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট পিটিশন দায়েরের সুযোগ নেই—বিবাদীপক্ষের এমন আইনি যুক্তি গ্রহণ করে হাইকোর্ট পূর্বে ইস্যুকৃত রুল এবং দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ‘এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য’ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে উচ্চ আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন।

আজ বুধবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুলাই বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলা পরিচালনাকালে আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। অন্যদিকে ব্যাংকের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়ুয়া। এছাড়া মামলার অন্য দুই বিবাদীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কিশোর।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, কোনো সম্পত্তি নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ক্রেতার নামে হস্তান্তর দলিল রেজিস্ট্রি এবং খতিয়ানে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে উক্ত সম্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট ক্রেতার চূড়ান্ত ও অখণ্ডনীয় আইনি স্বত্ব তৈরি হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আইনি সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর রিট আবেদনের মাধ্যমে সেই নিলাম বাতিল করা কিংবা পূর্বে হস্তান্তর হওয়া সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার কোনো সুযোগ সংবিধানে বা আইনে অবশিষ্ট থাকে না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে একটি ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় বকেয়া পরিশোধ না করায় সুদে-আসলে মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পাওনা টাকা আদায়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকায় বকেয়া পড়ে থাকা উক্ত সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়া হয়।

নিলামের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্ধারিত মূল্যে সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং ২০২২ সালের জুন মাসে তাঁদের অনুকূলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি ও খতিয়ানে নামজারি সম্পন্ন করা হয়। সম্পত্তি হস্তান্তরের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল উক্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে উচ্চ আদালত শর্ত সাপেক্ষে রুল জারি করেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন। তবে আদালতের শর্তে বলা হয়েছিল—আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পুরো বকেয়া অর্থ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় আদালতের দেওয়া রুল ও স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিট আবেদনকারী বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট আরও বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ও ১২(৮) ধারা অনুযায়ী নিলাম সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম বা সংক্ষুব্ধতার জন্য স্পষ্ট বিকল্প আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। আপিল বিভাগের বেশ কয়েকটি নজির ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনে যেখানে বিকল্প প্রতিকার বহাল রয়েছে, সেখানে সরাসরি রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

তদুপরি, নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় আগের রুল ও স্থগিতাদেশ আইনত আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। আর ইতিমধ্যে নিলাম ক্রেতাদের নামে দলিল রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন সম্পন্ন হওয়ায় তাদের অনুকূলে অখণ্ডনীয় আইনি স্বত্ব অর্জিত হয়েছে। তাই এখন আর এই নিলাম বাতিল করে রিটকারীকে সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

তবে চূড়ান্ত রায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে বলা হয়, ব্যাংকের নির্ধারিত সমস্ত বকেয়া পাওনা ও আইনি খরচ কেটে নেওয়ার পর যদি নিলামের অতিরিক্ত কোনো টাকা ব্যাংকে জমা থাকে, তবে তা অবিলম্বে রিট আবেদনকারীকে ফেরত দিতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর