চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে অবশেষে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার পর বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এলাকার বহু চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন এবং মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উচ্চপর্যায়ের একটি দল এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে যশোর জেলার ধুমধুমপুর নামক স্থানে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ডেভিড ইমন আত্মগোপনে থেকে ওই এলাকা দিয়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয় এবং সুনির্দিষ্ট চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ দলটি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সাঁড়াশি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ধুমধুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় তাকে কোনো প্রকার প্রতিরোধের সুযোগ না দিয়ে কৌশলে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হচ্ছে। চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্বের একাধিক মামলা এবং সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে অপরাধ সাম্রাজ্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামজুড়ে তার একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় ছিল, যা দিয়ে সে নগরীর বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি খাত এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও আদায় করত। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক অস্ত্র মামলা এবং চাঁদাবাজির অসংখ্য লিখিত অভিযোগ ও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিছুদিন ধরে তাকে আইনের আওতায় আনতে চট্টগ্রাম পুলিশ নগরী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সিএমপি সম্প্রতি যেসব সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছিল, তার মধ্যে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করাকে পুলিশের এক বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেভিড ইমনকে নিয়ে আসার পর তার সহযোগীদের চিহ্নিত করা এবং নগরীতে তাদের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও অভিযান চালানো হতে পারে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে এই আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আলোচিত এই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ী ও অধিবাসীদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।