ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

সাতক্ষীরায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন

বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও প্রচলিত ধারায় জট কমানো অসম্ভব


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৪৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান বিচারকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বুধবার জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আদালতের দীর্ঘসূত্রী মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপসযোগ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপসযোগ্য মামলাগুলো উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলে শুধু আইনি বিরোধের অবসান ঘটে না, বরং দুটি পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও সামাজিক তিক্ততা দূর হয়ে সম্প্রীতি বজায় থাকে। এতে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ যেমন বাঁচে, তেমনই আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আধুনিক ও শক্তিশালী করেছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে বেশ কিছু মামলার ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপসের উদ্যোগ গ্রহণের বিধান করা হয়েছে। এই কার্যক্রম সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড আইন সংশোধন-সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরেন এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস বিভিন্ন আইনের আওতায় আপসযোগ্য মামলার পরিধি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:

  • বিশেষ অতিথি: চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান

  • বিশেষ অতিথি: জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু

  • অন্যান্য বক্তা: অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ জাহারুল ইসলাম।

সভায় সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী এবং সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, মামলা জট নিরসন ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে লিগ্যাল এইডের এই আপস মধ্যস্থতার পরিধি আরও বিস্তৃত করা জরুরি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর