বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিনের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পদের অধ্যায় শেষ হয়েছে আগেই। তবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাফে কাজী সালাউদ্দিনের রাজত্ব এখনই শেষ হচ্ছে না।
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় টানা পঞ্চমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাফুফের সাবেক এই সভাপতি। শনিবার ভুটানে অনুষ্ঠিত হয় সাফ কংগ্রেস। কার্যনির্বাহী কমিটির এই নির্বাচনে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সালাউদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা করে কংগ্রেস।
সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা যদি শূন্য পদের সমান বা কম হয়, তবে কংগ্রেসের অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সেই ধারাবলেই আগামী এক মেয়াদের জন্য নিজের চেয়ার সুরক্ষিত করলেন ৭১ বছর বয়সী এই ক্রীড়া সংগঠক।
২০০৯ সাল থেকে টানা সাফের সভাপতির পদটি নিজের দখলে রেখেছেন কাজী সালাউদ্দিন। তবে বয়সজনিত কারণে এবার তার প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল।
গত বছর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সংস্থার এক বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭০ বছরের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। মূলত ওই পথ পরিষ্কার হওয়ার ফলেই আবারও সাফের সর্বময় কর্তার আসনে বসার সুযোগ পেলেন সালাউদ্দিন।
সাফের এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে দেশের ফুটবলের জন্যও থাকছে নতুন মুখ। বাফুফের সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ প্রথমবারের মতো সাফের নির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
অন্যান্য পদগুলোর মধ্যেও সহসভাপতি হিসেবে শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজী সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মেয়াদকালে সাফের অধীনে পুরুষ ও নারী ফুটবলে বেশ কয়েকটি নতুন টুর্নামেন্ট চালু হয়েছে। নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, আঞ্চলিক ফুটবলের মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন তিনি। ভুটানে আয়োজিত এই সাফের সভায় সকল সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্তসমূহকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। সাফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এই নতুন নির্বাহী কমিটি সামনের দিনগুলোতে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের সাবেক এই সফল ফুটবলার ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকের ওপর আবারও আন্তর্জাতিক এই সংস্থার নেতৃত্ব অর্পণ করায় সাফের বিভিন্ন সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা তাকে শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। আগামী মেয়াদে সাফকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ফুটবলের মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলাই কাজী সালাউদ্দিন এবং তার নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাফের এই নতুন পথচলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি দেশের ফুটবলের কূটনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।