ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুদের লুডু খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০


  • আপলোড সময় : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শিশুদের মোবাইল বা ঘরোয়া লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে হামদু মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত হামদু মিয়া উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া বন্দেরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

শনিবার সকালে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া (বাগদিয়া বন্দেরবাড়ি) এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে এ ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় আগের দিন শুক্রবার বিকেলে। সেদিন হামদু মিয়ার ১১ বছর বয়সী ছেলে নীরবের সঙ্গে প্রতিবেশী আবুল হোসেনের ১২ বছর বয়সী ছেলে ইয়াছিনের লুডু খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দুই শিশুর মধ্যাকার মারামারি পরিণত হয় বড়দের বিরোধে এবং এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন তাদের অভিভাবকেরাও। অভিযোগ রয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে হামদু মিয়ার লাঠির আঘাতে শিশু ইয়াছিনের মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে, যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

গতকালকের সেই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামদু মিয়ার বাড়িতে আচমকা হামলা চালায়। এতে প্রতিপক্ষের লোকজনও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের তীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হামদু মিয়া।

সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হামদু মিয়ার আট বছর বয়সী ছেলে হাসান, লিটন মিয়া, এরশাদ, রেজু বেগম, ফারুক মিয়া ও ইসলাম মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন মারাত্মক আহত হন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের বিজয়নগরের স্থানীয় হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বিজয়নগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় নতুন করে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা হামলা না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকায় এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুদের খেলাধুলার সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর