হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের যাত্রা শুরু হলো জয় দিয়ে নয়, ড্র দিয়ে। প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ইতালির ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে ২-২ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।
অস্ট্রিয়ার ক্লাগেনফুর্ট শহরের ওর্থারসি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় রিয়ালকে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক ও তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস সিরিয়ার গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরিনহোর দল। তবে বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় ফিওরেন্তিনা। রবার্তো পিসোলি ও মোয়াসে কিনের দুটি গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইতালিয়ান ক্লাবটি।
মরিনহোর ফেরার ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন মূল দলের আট ফুটবলার। গোলপোস্টে ছিলেন আন্দ্রি লুনিন। রক্ষণে খেলেছেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড, আলভারো কারেরাস ও ডেনজেল ডুমফ্রিস। মাঝমাঠে ছিলেন ফেদেরিকো ভালভার্দে, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও আর্দা গুলার। আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেন এন্দ্রিক। এছাড়া দলে সুযোগ পান অ্যাকাডেমির তিন খেলোয়াড়—হোয়াও মার্তিনেজ, মারিও রিভাস ও অ্যালেক্সিস সিরিয়া।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এন্দ্রিক। কামাভিঙ্গার দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে নিচু শটে গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর কামাভিঙ্গার আরেকটি নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সিরিয়া।
প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করলেও বিরতির পর ভিন্ন রূপে মাঠে নামে ফিওরেন্তিনা। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত রবার্তো পিসোলির জোরালো শটে ব্যবধান কমে ২-১ হয়। এরপর মোয়াসে কিন গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরালে রিয়ালের জয়ের আশা ধাক্কা খায়।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন যোগ দেওয়া কার্লোস এসপি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। ম্যাচের শেষ দিকে হেড থেকে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সেটিকে গোলে রূপ দিতে পারেননি তিনি। আরেক নতুন মুখ ডেনজেল ডুমফ্রিস খেলেছেন ৭৫ মিনিট এবং নিজের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে কার্লোস এসপি নিজের অভিষেক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। মাত্র ৭২ ঘণ্টারও কম সময় আগে মাদ্রিদে এসেছি। এর মধ্যেই অনুশীলন করেছি এবং অভিষেকও হয়ে গেল। মরিনহো আমাকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে এবং প্রতিপক্ষের বক্সে বেশি ঢোকার পরামর্শ দিয়েছেন।”
ফলাফল জয় না হলেও মরিনহোর অধীনে রিয়ালের নতুন অধ্যায়ে তরুণদের পারফরম্যান্স ও নতুন খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। তবে দুই গোলের লিড ধরে রাখতে না পারার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন হবে নতুন কোচের বড় চ্যালেঞ্জ।