মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
বর্ষা জানান দিচ্ছে গোয়ালন্দে। কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বেশ কিছু যাতায়াতের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্কুলগামী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে গত কয়েকদিন ধরে হাঁটুপানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে একটি মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী শেখ জুয়েল বাহাদুর। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি শিক্ষার্থীদের সহজে ও নিরাপদে পারাপারের জন্য একটি সুদৃঢ় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন। তাঁর এমন মানবিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন অত্যন্ত আনন্দের সাথে সারিবদ্ধভাবে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আশা করছে। কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, ওই এলাকার সাধারণ নারী-পুরুষরাও নিয়মিত পার হচ্ছেন এই সাঁকো দিয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে স্কুলের পাশের নালা উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র শর্টকাট রাস্তাটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ঘুরে কিংবা নোংরা পানির মধ্য দিয়ে দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে হতো। মূল সড়কে যানবাহন চলাচলের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি উপলব্ধি করে সাঁকো তৈরির তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুর।
স্কুলের শিক্ষার্থী তাইয়্যেবা, রোজা ও আয়াত আল তকি আনন্দের সাথে বলে, "সাঁকোটি তৈরি করায় আমাদের অনেক বড় উপকার হয়েছে। এখন আর আমাদের নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসতে হয় না। খুব সহজেই ও নিরাপদে আমরা এখন স্কুলে আসতে পারছি।"
বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জালাল বিশ্বাস জানান, "বিদ্যালয়ের একাংশের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই শর্টকাট রাস্তা দিয়েই স্কুলে আসত। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে আমরা বেশ চিন্তায় পড়ে যাই। বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রের এমন মানবিক কাজের জন্য আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।"
উদ্যোক্তা ও প্রাক্তন ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুর বলেন, "সরকারের পাশাপাশি নিজের বিদ্যাপীঠের প্রতি প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমারও কিছুটা সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই কোমলমতি শিশুদের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমি সাঁকোটি তৈরির উদ্যোগ নিই। এখন আর শিক্ষার্থীদের অতটা দূর ঘুরে কিংবা পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হবে না। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে যার যার এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো।"