ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কাজ শেষ হতে না হতেই ৩০০ ফুট সড়ক দেবে গেল!


  • আপলোড সময় : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:২৪ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই অন্তত ৩০০ ফুট সড়ক দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদারের অনিয়ম, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটির দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বে গাফিলতি থাকা তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের আমতলী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে কাজটি পায় রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে নেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন।

কাজের শুরু থেকেই সড়ক নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু ও সামগ্রী ব্যবহার করেছেন ঠিকাদার বাদল খাঁন। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল ও শহীদুল ইসলাম জানান, অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলীকে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। গত দুই বছর ধরে ধীরগতিতে কাজ চললেও তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; অথচ তার আগেই সড়কের দুটি স্থানে অন্তত ৩০০ ফুট অংশ দেবে গেছে।

আজ রোববার বিকেলে আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুটি পৃথক স্থানে অন্তত ৩০০ ফুট অংশ দেবে গিয়ে বড় আকারের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে দেবে যাওয়া অংশে লাল কাপড় টানিয়ে দিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মেহেদী জামান রাকিব বলেন, "কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখন রাস্তা দেবে গিয়ে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। কাজের অনিয়ম তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার ও চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন সড়ক দেবে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "কাজের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, কাজ চলমান রয়েছে। দেবে যাওয়া অংশটুকু পুনরায় সঠিকভাবে নির্মাণ করে দেওয়া হবে।"

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, খবর পেয়ে তিনি দেবে যাওয়া স্থান পরিদর্শন করেছেন। খালের পাশে সড়ক হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কাজ যেহেতু এখনো প্রক্রিয়াধীন, তাই ঠিকাদারকে দেবে যাওয়া অংশটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। দেবে যাওয়া সড়ক পুনরায় শতভাগ মানসম্মতভাবে নির্মাণ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে কোনো চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না।"

বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো বিস্তারিত জানেন না। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর