বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। ফুটবল বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বেসরকারিকরণের বিতর্কিত প্রস্তাবে সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন দেশীয় ফুটবল সংস্থাকে অসংগত চাপের মুখে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি 'ব্ল্যাকমেইল' করার গুরুতর অভিযোগ এনেছে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নিজস্ব নীতি এবং অর্থনৈতিক অধিকার খর্ব করার এই প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার নতুন ঝড় তুলেছেন জর্ডান ফুটবলের প্রধান আলি বিন হুসেইন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জর্ডানের ফুটবল প্রধান আলি বিন হুসেইন জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেওয়ার শর্তে জর্ডানের ফুটবল সমস্যার সমাধান ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেয় সংস্থাটি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত এসব প্রশাসনিক সংকট দূর করতে আগেই অনীহা প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি। জর্ডানের স্পষ্ট বার্তা—নৈতিক মূল্যবোধ জলাঞ্জলি দিয়ে তারা কখনো এমন অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের আরব কাপের ফাইনালে ওঠার অর্জিত মোটা অঙ্কের প্রাইজমানি এখনো জর্ডানকে পরিশোধ করেনি ফিফা, অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ নিয়ে বড়াই করে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
শুধু প্রাইজমানির অর্থ আটকে রাখাই নয়, ভিসা জটিলতার পরও টিকিট বাবদ ভক্তদের অর্থ প্রদান, যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট চলাকালীন অতিরিক্ত করের বোঝা এবং কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন বিন হুসেইন। এর আগে বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চ বাণিজ্যিক বা প্রাইভেটাইজেশন করার জন্য ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ৪ কোটি ডলার করে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ইউনিয়ন (উয়েফা)-র সং সংক্ষুব্ধ ৫৫টি দেশসহ প্রায় এক শ দেশ টুর্নামেন্ট বয়কটের চরম হুমকি দিলে পিছু হটতে বাধ্য হন তিনি। এখন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে সহযোগী দেশের ওপর এমন চাপ প্রয়োগের ঘটনায় বিশ্বমঞ্চে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।