ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬,  ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়ার ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিতের প্রত্যয় তিন মন্ত্রীর আ.লীগ এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ মতিঝিল ও সাভারে আইইডি উদ্ধারে বিদেশি অর্থায়নের ছায়া, সন্ধানে গোয়েন্দারা মতিঝিল ও সাভারে আইইডি উদ্ধারে বিদেশি অর্থায়নের ছায়া, সন্ধানে গোয়েন্দারা রবিবার কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনের ওপর ১০০% শুল্কের মার্কিন বিল পাস রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম: ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক: মার্কিন সিনেটে বিল পাস ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেখ হাসিনার পতনের শেষ ৭২ ঘণ্টা: উত্তাল রাজপথ থেকে ভারতে প্রস্থান


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:০২ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া জনক্ষোভ যে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে, ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুর দিনগুলোতেও তা অনেকের ধারণার বাইরে ছিল। তবে ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পর চিত্র বদলে যায় দ্রুত গতিতে। শহীদ মিনারের উত্তাল সমাবেশ থেকে শুরু করে সামরিক বিমানে শেখ হাসিনার ভারত গমন—ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রে থাকা শেষ ৭২ ঘণ্টায় বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট চিরতরে বদলে যায়।


২ আগস্ট: রাজপথে সংঘর্ষ ও ডিবি কার্যালয়ের নাটকীয়তা ২ আগস্ট এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানায়, আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অন্তত ৩২টি শিশু নিহত হয়েছে। ওইদিনই ঢাকাসহ সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিলকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


একই দিন গোয়েন্দা কার্যালয় (ডিবি) থেকে মুক্ত হয়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সমন্বয়ক জানান, তাদের ওপর জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই দিনই শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত হয় 'দ্রোহ যাত্রা'। সাময়িকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম বন্ধ রাখা হয়। রাতে গণভবনে ১৪ দলের নেতাদের সাথে বৈঠক করে সমন্বয়কদের সাথে আলোচনার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। অপরদিকে আন্দোলনকারীরা ৩ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিল, ৪ আগস্ট থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ এবং শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দেন।


৩ আগস্ট: এক দফা ঘোষণা ও সংলাপে অনীহা ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিশাল জনসমুদ্র থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "এ সরকারের কোনোভাবেই আর এক মিনিট ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগও করতে হবে, বিচারের আওতায়ও আনতে হবে।" আন্দোলনকারীরা একই সাথে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি তোলেন এবং ৬ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা'র ডাক দেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, "গণভবনের দরজা খোলা, আলোচনায় বসতে চাই।" তবে সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেন, "গুলি আর সন্ত্রাসের সাথে কোনো সংলাপ হয় না।" নাহিদ ইসলামও জানান, ক্ষমা চাওয়ার সময় পার হয়ে গেছে।


একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান সহিংসতা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনকে চিঠি পাঠান। এদিকে সেনা সদরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।" বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানান।


৪ আগস্ট: সর্বাত্মক অসহযোগ ও সান্ধ্য আইন ৪ আগস্ট সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনেই সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জেই ১৩ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হন। সরকার ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন (কারফিউ) বলবৎ করে।


শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে কঠোর হাতে দমনের আহ্বান জানান। তবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে সশস্ত্র বাহিনীকে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ওদিকে শাহবাগের মহাসমাবেশ থেকে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট ঘোষণা করা হয়।


৫ আগস্ট: রাজপথে জনস্রোত ও শেখ হাসিনার প্রস্থান ৫ আগস্ট সকালে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ও কারফিউ উপেক্ষা করেই ঢাকার রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পুনরায় বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েন করা হয়। উত্তরায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনের কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে আন্দোলনকারীরা রাজলক্ষ্মী ও শাহবাগের দিকে এগোতে থাকে। সেনাবাহিনী জনতার এই স্রোতে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। দুপুরের পর চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ক্ষমতা ছেড়ে সামরিক বাহিনীর বিমানে পরিবারসহ ভারতে পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা।


সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বিকেল চারটায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।"


খবর পাওয়ার পরপরই আন্দোলনকারীরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনে ঢুকে উল্লাস প্রকাশ করে। রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা বলেন। অন্যদিকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ীই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হতে হবে। এভাবেই অবসান ঘটে শেখ হাসিনার শাসনকালের।


এ সম্পর্কিত আরো খবর