স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একসময় সঞ্জয় পান্ডে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের মালামাল বহনের কাজ করতেন। পরে সীমান্তের দুই পাশের চোরাকারবারিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও প্রভাব বাড়তে থাকে। বর্তমানে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব একটি বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সঞ্জয় পান্ডের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(গ)/৪১ ধারায় দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় মামলা নম্বর-১৫, জিআর-২৭১ দায়ের করা হয়। অপর মামলাটি ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সঞ্জয় পান্ডে তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বিশ লাইনের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার বাবা রাজারাম পান্ডে চা-বাগানের শ্রমিক হিসেবে দৈনিক ১৭৯ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। অথচ সঞ্জয় পান্ডের প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা বাড়ি এবং প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের সুজুকি জিঞ্জার মডেলের মোটরসাইকেল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির গেট ও উঠানসহ বিভিন্ন স্থানে দামি টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান ফটকে হিন্দি ভাষায় লেখা থাকায় দূর থেকে বাড়িটিকে ভারতের কোনো বাড়ি বলে মনে হতে পারে। বাড়িতে ব্যবহৃত টাইলস ভারত থেকে আনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও তেলিয়াপাড়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বড় বাংলোয় ২৭ জন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করার কার্যক্রম শুরু হয়। ঐতিহাসিক সেই তেলিয়াপাড়া বর্তমানে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে আলোচনায় আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সঞ্জয় পান্ডের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। এ কারণে সেখানে সবসময় ইচ্ছামতো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তবে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার করছে।