ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ দেশকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর রাজপথ থেকেই যেকোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী ১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয়: মাহ্দী আমিন আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন আজ আই ও প্রযুক্তি রূপান্তরের যুগে তরুণরাই নতুন সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যেই বন্ধ হবে শপিং মল ও দোকানপাট ২৮ জন শিক্ষকের ৩২ পরীক্ষার্থী, তাড়াশের দুই মাদ্রাসায় পাসের হার শূন্য ১৭ জন শিক্ষক, ১৮ জন শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

হাতুড়ি-বাটালের শব্দ ছাপিয়ে পিয়াসের জয়গান

তাড়াশে সর্বোচ্চ ১১৯৩ নম্বর পেয়ে প্রথম কাঠমিস্ত্রীর ছেলে


হাতুড়ি-বাটালের শব্দ ছাপিয়ে পিয়াসের জয়গান

  • আপলোড সময় : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৫৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অদম্য মেধাবী কাঠমিস্ত্রীর ছে‌লে পিয়াস মেধাতা‌লিকায় হ‌য়ে‌ছেন প্রথম, পে‌য়ে‌ছেন তাড়াশ উপ‌জেলার স‌র্বোচ্চ নম্বর ১১৯৩। হাতুড়ি বাটালের খটখট শব্দেও থেমে থাকেনি পিয়াসের পড়াশোনা। মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও মেধাবী শিক্ষার্থী পিয়াস সুত্রধরের উচ্চশিক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।


সোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আহমেদ আলী জানান, দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অদম্য মেধাবী আমাদের পিয়াস এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তাড়াশ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে।


পিয়াস জানায়, অত্যন্ত অভাব আর  দারিদ্র্যের টানাটানির সংসার আমাদের।  বাবার আয়েই চলে সংসার। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সাপ্তাহিক হাটবারের বেঁচাকেনার জন্য বাবার সাথে কাঠমিস্ত্রীর কাজও করেছি।


রেজাল্টের পরে পিয়াস সুত্রধর আরো বলেন, আমার রেজাল্ট প্রকাশের পর যখন জানতে পারলাম যে আমি GPA-5 পেয়েছি এবং তাড়াশ উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর (১১৯৩/১২০০) অর্জন করেছি, তখন প্রথমে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এতদিনের পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা আর অপেক্ষার পর ফলাফলটা দেখে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।


সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখে হাসি দেখে। আমার এই সাফল্যের পেছনে আমার বাবা-মায়ের ত্যাগ, আমার শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং আমার নিজের পরিশ্রম সবকিছু জড়িয়ে আছে।

এই ফলাফল আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। আমি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে চাই। এই অর্জন আমার কাছে শুধু একটি ফলাফল নয় বরং সামনে বড় কিছু করার দায়িত্ব।


পিয়াসের বাবা ব‌লেন, রেজাল্টের খবর শুনে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমার ছেলে GPA-5 পেয়েছে এবং তাড়াশ উপজেলায় প্রথম হয়েছে এটা একজন বাবা হিসেবে আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমাদের সংসারে অভাব অনটন আছে, আমি কষ্ট করে সংসার চালাই। তারপরও চেষ্টা করেছি ছেলের পড়াশোনায় যেন কোনো সমস্যা না হয়। পিয়াসের এই ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে আমার সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। আমি চাই ভবিষ্যতে ও আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করুক এবং একজন ভালো মানুষ হোক।


ওর শিক্ষকরা যেভাবে ওকে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আমি তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ফটিক কুমার সরকার জানান, পিয়াস অদম্য মেধাবী, কোন প্রতিকুলতাই তা‌কে দমা‌তে পা‌রে‌নি। সে বিজ্ঞান বিভা‌গের ছাত্র বিধায় তার পড়া‌শোনার জন‌্য বি‌শেষ কিছুর প্রয়োজন হয় যা আমরা প্রতিষ্ঠান থে‌কে সহযোগিতা ক‌রে‌ছি।


আর ভা‌লো কিছু করার জন‌্য তার ছিল তীর্ব ইচ্ছা ও প‌রিশ্রম। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে টাকা উপার্জন করতেন তা দিয়ে তা‌দের পরিবারের সদস্যদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই ছিল কষ্টসাধ‌্য। সদ্য প্রকাশিত এসএসসির রেজাল্টে সোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকায় আলোড়ন তৈরি করে। সে আমা‌দের বিদ‌্যাল‌য়ের গর্ব।



এ সম্পর্কিত আরো খবর