ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

১৭ জন শিক্ষক, ১৮ জন শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:০৩ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় এ বার এস এসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক আছেন ১৭ জন। তবে ১৮ জনের কেউ পাস করতে পারিনি। 

শুধু পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা নয়, উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদ্রাসায় এমন চিত্র। মাদ্রাসাটিতে এ বছর কেউ পাস করতে পারিনি। 


গত সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যশোর বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নড়াইল জেলা থেকে এবার মোট ৮ হাজার ২৬২জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। জেলায় মোট জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে শিক্ষাবোর্ডের (সাধারণ) জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭০ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ জন।

জেলার ১৮৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে  দুই টি মাদ্রাসায় কেউ পাস  করতে পারিনি। 


মাদ্রাসা দুটি হল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা ও সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদ্রাসা। 


মঙ্গলবার ( ১১ আগষ্ট)  সকালে উপজেলার পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে পাঠদান চলছে। দোতলা ভবনে উঠতেই চোখে পড়ে মাদ্রাসা সুপারের কক্ষ। 

কথা হয় পেড়লী দাখিল মাদ্রাসার সুপার  আশরাফুল জাম্মানের সাথে। এসময় তিনি বলেন। "অন্য বছর ফলাফল ভাল হলেও এ বছর ফালফলা খুবই খারাপ। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাল শিক্ষার্থী ও রয়েছে। আমরা অভিভাবক সমাবেশ করব সেখানে সকল শিক্ষকরা ও থাকবেন। যেসব শিক্ষার্থীর সন্দেহ আছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। এরপর প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে"

মাদ্রাসা সূত্রে যানাগেছে, পেড়লী দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিা করা হয়। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এস এস সি পরিক্ষায় অংশ নেয়।১৯৯৩ সালে মাদ্রাসাটি এমপিও করা হয়। মাদ্রাসায় বর্তমানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তার বিপরীতে মাদ্রাসাটিতে সুপার সহ ১৭ জন শিক্ষক রয়েছে গত ২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শত ভাগ পাস ছিল। এ বছর শতভাগ ফেল হাওয়ায় অনেকটা হতাশ শিক্ষকরা। 

অন্য দিকে আফরা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসাটি জরাজীর্ণ পড়ে আছে।সেখানে কোন শিক্ষক - শিক্ষার্থী নেই। অনেক খোঁজাখুজির পর মাদ্রাসার সুপারকে ডেকে দেন স্থানীয় এক জন।  মাদ্রাসাটির সুপার আতিকুর রহমান  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছি। এমপিও না হওয়ায় এখন মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

তবে পরিক্ষার খারাপ ফলাফল কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয়  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। মাদ্রাসাটি থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী তুষ্মি খানম। সে বলেন, "আমি ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছি। শ্রেনিকক্ষে  প্রথম অবস্থানে থাকি। ফলাফল সিটে সব কয়টিতে জিপিএ -৫ পেয়েছি। ইংরেজি পরিক্ষা আমি ভাল দিয়েছি। কিন্তু ফেল কেন দেখাচ্ছে এ বিষয়ে আমি খুবই বিস্মিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব। আমার বিশ্বাস, ফল পরিবর্তন হবে।"

সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের রুমা বেগম নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার শুরু থেকে ১ম - ২য় হয়। কেউ তার কাছ থেকে নিতে পারে না। মেয়েটি পরিক্ষা দিয়ে এসেছে তা ও ভাল। তাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানো হয়েছে। এটি হওয়ার কথা ছিল না। শুধু তাকে দেখানো হয়নি। মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীকে ফেল দেখিয়েছে। "

নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, নড়াইল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দুইটি প্রতিষ্ঠান পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা ও আফরা দাখিল মাদ্রাসার কোন  শিক্ষার্থী পাস করেনি। আমি নড়াইলে সম্প্রতি সময়ে যোগদান করেছি। বিভিন্ন স্কুলের সাথে মতবিনিময় করছি। যে দুইটি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। আমরা সেখানে যাব। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করব। আগামীতে যেন স্কুলের রেজাল্ট ভাল হয় সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর