ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে আগুন ঝরাচ্ছেন হাসান মাহমুদ

১৮২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে অস্ট্রেলিয়া


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:১৭ এএম

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের পেস ও গতিবান্ধব উইকেটে আগুন ঝরাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার চার টপ অর্ডার ব্যাটারকে দ্রুত সাজঘরে পাঠানোর পর দ্বিতীয় সেশনেও অব্যাহত রয়েছে টাইগার পেসারদের বিধ্বংসী দাপট। একে একে অসি ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে নিজের তৃতীয় শিকার পূর্ণ করেন ডানহাতি তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। হাসান মাহমুদের এই সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ আঘাতে ১৭২ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।


ইনিংসের ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে অফ স্টাম্পের খানিকটা বাইরে তীক্ষ্ণ ডেলিভারি দেন হাসান মাহমুদ। সেখানে কভার অঞ্চল দিয়ে কাট শট খেলতে চেয়েছিলেন অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে হাসান মাহমুদের বাড়তি গতি ও অতিরিক্ত সুইং সামলাতে না পেরে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে বসেন তিনি। উইকেটের পেছনে অতি সতর্কতায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বস্ত উইকেটরক্ষক লিটন দাস কোনো ভুল না করে ক্যাচটি গ্লাভসবন্দী করেন। ফলে ১৯ বলে মাত্র ৯ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় প্যাট কামিন্সকে। অধিনায়কের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ ও মিডল অর্ডারের পতন ঘটে। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে একা লড়ে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। সফরকারী পেসারদের একের পর এক বাউন্সার ও সুইং সামলে একাই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এই বর্ষীয়ান ব্যাটার। ৪৭.২ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে অসিদের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১৮২ রানে, যেখানে স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে নতুন ব্যাটার হিসেবে মাঠে যোগ দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক।


এর আগে দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই হাসান মাহমুদের পাশাপাশি দারুণ নিয়ন্ত্রিত স্পেলে বল করতে থাকেন স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে অফ স্টাম্পের ওপর ফেলা তাসকিনের একটি মারাত্মক ইনসুইঙ্গার পুরোপুরি মিস করে বসেন অসি ব্যাটার বিউ ওয়েবস্টার। ভুল লাইনে ডিফেন্ড করার খেসারত হিসেবে তাসকিনের তীব্র গতিময় ইনসুইঙ্গারটি সরাসরি আঘাত হেনে ওয়েবস্টারের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। ১০ বলে ১২ রান করে ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৫৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।


তারও আগে, প্রথম সেশনে দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া অসি দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর নিরন্তর চেষ্টা করছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রানের বেশ ভালো একটি পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছিলেন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই দীর্ঘ পার্টনারশিপ ভাঙেন পেসার এবাদত হোসেন। এবাদতের শর্ট লেংথের একটি ডেলিভারি ফ্রন্টফুটে রক্ষণাত্মকভাবে ডিফেন্ড করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হন অ্যালেক্স ক্যারি। বল সরাসরি গিয়ে ভেঙে দেয় তাঁর পেছনের স্টাম্প। ফলে ১৯ রান করে ক্যারি আউট হলে ভেঙে যায় অসিদের এই প্রতিরোধ।


ম্যাচের শুরু থেকেই যদি হিসাব করা হয়, ডারউইনে টস পরবর্তী প্রথম সেশনটি পুরোপুরি ছিল বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রনে। দিনের শুরুতেই ঘাসযুক্ত ও শক্ত উইকেটে হাসান মাহমুদের তোপে বিপদে পড়েন অসি দুই ওপেনার। ১২তম ওভারে দারুণ এক আউটসুইঙ্গারে ওপেনার জ্যাক ওয়েদারেল্ডকে (২৩) লিটন দাসের চমৎকার ক্যাচে পরিণত করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন হাসান। নিজের পরের স্পেলে ১৪তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেংথে ফেলা বলে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন আক্রমণাত্মক ওপেনার ট্র্যাভিস হেড (২২)।


প্রথম সেশনের মাঝামাঝি সময়ে এবাদত হোসেনের করা ওভারের শেষ বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে স্টিভেন স্মিথের একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ফলে ৭ রানে জীবন পান স্মিথ। ক্যাট মিসের হতাশা কাটিয়ে নিজের পরের ওভারেই তরুণ মারনাস লাবুশেনকে (১) দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর নির্ভরযোগ্য হাতের ক্যাচ বানান স্পিডস্টার এবাদত হোসেন। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা ক্যামেরন গ্রিনকে (১৩) মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা অভিজ্ঞ ফিল্ডার মুশফিকুর রহিমের দারুণ ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন আহমেদ।


প্রথম সেশনে চোটাক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে যাওয়া নিয়মিত পেসার নাহিদ রানার অভাব কোনোভাবেই বুঝতে দেননি দলে থাকা তিন পেসার—হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন। প্রথম সেশনেই দুইটি রিভিউ নষ্ট এবং স্মিথের একটি ক্যাচ মিস করার আফসোস থাকলেও চার উইকেট তুলে নিয়ে চালকের আসনে থেকেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সেশনেও বোলিং আক্রমণের এই অসামান্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কামিন্স, ওয়েবস্টার ও ক্যারিকে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতেই পুরোপুরি কোণঠাসা করে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর