ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে হাসান মাহমুদের পেস তোপ

১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১২:২১ পিএম

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের পেস ও গতিবান্ধব উইকেটে আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনদের মারাত্মক বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিক ব্যাটাররা। তরুণ ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা স্পেলের ওপর ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের নিচে, অর্থাৎ মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলে থামে স্বাগতিক দল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে সর্বোচ্চ ৭১ রানের লড়াইসংগ্রামময় ইনিংস উপহার দেন বর্ষীয়ান ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। সফরকারী দলের পক্ষে অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ৫৫ রান খরচায় একাই ৬টি উইকেট শিকার করেন তরুণ স্পিডস্টার হাসান মাহমুদ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন তুলে নেন ২টি করে উইকেট।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে সকালে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ ছিলেন দারুণ আক্রমণাত্মক। উইকেটের দুই দিকেই সুইং করানোর পাশাপাশি বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেন তিনি। তাঁর করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ব্যাটার ট্র্যাভিস হেড। তবে বল খালি জায়গায় পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার। নিয়মিত সঠিক লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। ওভারের চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান মাহমুদ। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে আউটসাইড এজ হয়ে বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ২৩ রান করে জ্যাক ওয়েদারেল্ড ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী পার্টনারশিপ।


নিজের ফিরতি ওভারে আবারও আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। এবার তাঁর শিকার হন আরেক ওপেনার ট্র্যাভিস হেড। ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলটি গুড লেংথ থেকে ভেতরের দিকে সুইং করান হাসান। বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সরাসরি আছড়ে পড়ে স্টাম্পে। ফেরার আগে ট্র্যাভিস হেড করেন ২২ রান। এরপর ১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে স্টিভেন স্মিথের একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন তানজিদ হাসান তামিম। জায়গায় দাঁড়িয়ে বল হাতে জমাতে না পারায় হতাশায় মাথায় হাত দেয় পুরো দল। তবে নিজের প্রথম উইকেট পেতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদত হোসেনকে। পরের ওভারেই অসি ব্যাটার মার্নাস ল্যাবুশেনকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে করেন এবাদত। সেখানে দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউটসাইড এজ হয়ে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে, যেখানে দাঁড়ানো ফিল্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন ল্যাবুশেন।


দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অসিদের চাপমুক্ত করতে আক্রমণাত্মক খেলার পথ বেছে নেন ক্যামেরন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের এই মারকুটে মনোভাবের সুযোগ নিয়ে সুন্দর ফাঁদ পাতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ওভারের শেষ বলটি চতুরতার সঙ্গে গুড লেংথে করেন তাসকিন আহমেদ। অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মুশফিকুর রহিমের হাতে সহজ ক্যাচ দেন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেন ১৩ রান। ফলে ৪ উইকেটে ৭৪ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।


বিরতি থেকে ফিরে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি সাবলীলভাবে রান তুলতে থাকেন। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার দ্রুত গতিতে রান তুলে বড় জুটির আশা জাগান। তবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই এই ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকে। পাঞ্চ করতে গিয়ে ব্যাটের ইনসাইড এজে বল সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ১৯ রান করে আউট হন অ্যালেক্স ক্যারি। এরপর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশের পেসাররা। দুজন ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে অলআউটের প্রান্তে পৌঁছে যায় স্বাগতিক দল।


চা বিরতি থেকে ফিরে একাই ম্যাচ টেনে নেওয়ার লক্ষ্যে ডারউইনের মাঠে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন স্টিভেন স্মিথ। তবে তাতে ঘটে হিতে বিপরীত। হাসান মাহমুদের একটি খাটো লেংথের বলে উইকেটের সামনে এগিয়ে এসে পুল শট খেলার চেষ্টা করেন স্মিথ। ব্যাটের টপ এজ হয়ে বল সোজা শূন্যে উঠে গেলে চমৎকার ক্যাচ ধরে তাঁকে সাজঘরে ফেরত পাঠান ফিল্ডাররা। ৭১ রান করা স্মিথকে আউট করার মাধ্যমেই টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় ‘ফাইফার’ বা ৫ উইকেট অর্জনের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান মাহমুদ। এর পর শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকেও নিজের শিকার বানান এই তরুণ পেসার। এর মাধ্যমে ইনিংসে একাই ৬ উইকেট শিকারের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন হাসান মাহমুদ এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন দুর্দান্ত এক শুরু।


এ সম্পর্কিত আরো খবর