কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যই হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও গ্রামের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। তিনি জানান, দেশের আপামর জনগণ বিগত নির্বাচনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছে। ফলে বিএনপির এই জনকল্যাণমূলক রাজনীতি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুর এলাকায় প্রবাহমান ব্রহ্মপুত্র নদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ শেষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পোনা অবমুক্তকরণের বাস্তব সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সাধারণ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আজ এখানে যেসব মাছের পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন উপযুক্ত পরিবেশে বড় হবে, ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন শাখা নদী ও খালে-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর আসল উপকারভোগী কারা হবে? এতে কিন্তু লন্ডন কিংবা জাপানের মানুষের কোনো উপকার হবে না; এর প্রত্যক্ষ সুফল ও উপকার ভোগ করবে আমাদের বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
দেশজুড়ে কৃষি ও জলাশয় উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পূর্বে তাঁরা দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহে সেই খাল খননের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক কৃষকেরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন এবং খালের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজনও ব্যবহারের পানির চমৎকার সুবিধা পাচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল খাল খনন করলেই চলবে না, সেই খালের সংরক্ষিত পানি কৃষি সেচে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। ব্রহ্মপুত্র নদের পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সকল বড় নদী ও খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে, যা খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
দেশের সার্বিক উন্নয়নে নারী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, মোট জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ নারী। এই বিপুল নারী সমাজকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইতিপূর্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীদের শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক ঘোষণা করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান সরকারও দেশের নারী সমাজকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রার সমান অংশীদার করতে সংকল্পবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর