ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

দুমকিতে খাস খালের জমি বেদখল, নির্বিকার প্রশাসন


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:৩৮ পিএম

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পীরতলা বাজার, আঙ্গারিয়া বন্দর, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার, জলিশা কদমতলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারসংলগ্ন খালের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলদাররা খালের জায়গা ভরাট করে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখল করলেও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি খাল সংকুচিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুমকি উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক অস্থায়ী দোকানের পেছনের অংশ ধীরে ধীরে ভরাট করে দোকানের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। কেউ কেউ সেখানে স্থায়ী স্থাপনাও নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি খালে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষণের সঙ্গে নাব্যতা সংকটও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল ও ভরাটের কারণে বিভিন্ন স্থানে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

শুধু পীরতলা খাল নয়, উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর, দুমকি সাতানীর কালভার্ট বাজার, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার ও জলিশা কদমতলা বাজারসংলগ্ন খালের পাড়ের সরকারি খাস জমিও দখলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়। পরে ধীরে ধীরে এসব স্থাপনা পাকা ও স্থায়ী রূপ নেয়। এভাবে দখল বাড়তে থাকায় অনেক খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়। অথচ দখলদার ও অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ভূমি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দখলদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দখলের কারণে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাল সংকুচিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ে। একই সঙ্গে কৃষিকাজে স্বাভাবিক পানি প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাজার ও খালসংলগ্ন সরকারি খাস জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও স্থাপনা চিহ্নিতকরণ এবং আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দখলদারদের কাছ থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনারও দাবি তাদের।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘খালের ওপরে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে আমরা ডিসি অফিসে পাঠিয়েছি। সামনে যখন খাল পুনঃখননের কাজ করা হবে তখন একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে এসব অবৈধ দখলদারদের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে। আশা করছি আগামী দু-এক মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হতে পারে।’

সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন, দখল ও স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর