ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ভারতীয় সাবেক কূটনীতিক

তারেক রহমানের ভারত সফরে খুলতে পারে সম্পর্কের ‘নতুন দুয়ার’


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:০৬ পিএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে চলমান আলোচনার মাঝে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি। এই সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


সোমবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ সার্ভিসকে (এএনআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, আমি আশাবাদী। সমাধান করার মতো ঝুলে থাকা অনেক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে কিছু সূক্ষ্ম বিষয় বাদ পড়ে যায়। আমার মনে হয় বাংলাদেশও রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে সমপরিমাণ আগ্রহী।


তিনি আরও বলেন, তারা চায় ভারত যেন এখানে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ছাড়া ভারতের অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। বাংলাদেশও হয়তো এই সুযোগে তাদের সুবিধার্থে মিয়ানমারের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ভারতের ভালো সম্পর্কের প্রভাব ব্যবহার করার অনুরোধ জানাতে পারে।


তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসা ও তাঁর নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করে সোনি বলেন, আমার মনে হয় তারেক রহমান অনেকটাই খোলা মনের মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং তিনি নিজে এমন কোনো মন্তব্য করেননি, যা ভারতবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। তাই ভারতও সতর্কতার সঙ্গে সম্পর্কের এই সুবর্ণ সুযোগ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।


এএনআইকে তিনি আরও বলেন, এত কথা বলা সত্ত্বেও, এগুলো আসলে উভয় পক্ষের সরকারি মুখপাত্রদের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনীতিবিদরা এখনও এ নিয়ে কিছু বলেননি। তাই আমার মনে হচ্ছে তাঁর আসার একটি ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।


ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক যোগাযোগের এই বর্তমান সুযোগকে কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন সাবেক এই কূটনীতিক। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যদি ভারত সফরে না আসেন, তাহলে এই সুযোগের জানালাটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই যোগাযোগের চ্যানেলটি খুব বেশি দিন খোলা থাকবে না। এই সুযোগ আমরা বা তারা কেউই হাতছাড়া করতে চাইব না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম গত রোববার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সক্রিয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।


গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতে এটিই হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর। এই সফর নিয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও ঢাকা পরিষ্কারভাবে বলেছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক প্রকাশ্যে প্রেস ইভেন্টে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে সফরের চূড়ান্ত কোনো তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।


বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দণ্ডিত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারাধীন প্রত্যর্পণের অনুরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।


তবে শেখ হাসিনার সেই প্রেস ইভেন্টের সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দূরত্ব বজায় রেখেছে ভারত। ভারতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশটির রাজধানীতে শেখ হাসিনার ওই প্রেস ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।


এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, ওই আয়োজনটি একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান করেছিল এবং সেখানে ব্যক্ত করা কোনো মন্তব্যকে নয়াদিল্লি সমর্থন করে না। জয়সওয়াল বলেন, আপনারা যে বিষয়টির কথা বলছেন, তা একটি বেসরকারি মিডিয়া হাউস আয়োজন করেছিল। এতে ভারত সরকারের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না। সেখানে বলা কোনো মন্তব্যকে সমর্থনও করে না সরকার।


এ সম্পর্কিত আরো খবর