ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

রাজশাহী বোর্ডে এসএসসির ৯৮,৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩১ পিএম

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের পর উত্তরপত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের নজিরবিহীন হিড়িক পড়ে গেছে। প্রকাশিত মূল ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে চরম হতাশা ও অসন্তোষ নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডে তাদের আবেদন জমা দিয়েছেন। শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশিত তথ্যসূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক সর্বমোট ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনরায় নিরীক্ষণের জন্য পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পুনরায় পরীক্ষা করার আবেদন করা বিপুল উত্তরপত্রের মধ্যে বরাবরের মতোই তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে পরীক্ষার সার্বিক তথ্যসহ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ফলাফল প্রকাশের পর নিজস্ব মূল্যায়নে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনরায় পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে শিক্ষা বোর্ডের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এসব আবেদন সম্পন্ন করেছেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মূল পরিসংখ্যান ও প্রকাশিত অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক আওতাধীন উত্তরবঙ্গের আট জেলার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলাফলে সার্বিক পাসের গড় হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে সর্বোচ্চ সফলতা জিপিএ-৫ লাভ করতে পেরেছে ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত ঐতিহাসিক ফলের উপাত্ত বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সাত বছরের দীর্ঘ সূচক ও সময়কালের মধ্যে এবারই প্রথম রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফল সবচেয়ে বেশি খারাপ, দুর্বল ও আশঙ্কাজনকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিগত ২০২০ সালে এই স্বনামধন্য শিক্ষাবোর্ডে সাধারণ পাসের সুন্দর হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অথচ বর্তমান ২০২৬ সালে এসে সেই সফল পাসের হার অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়ে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ স্পষ্ট পরিসংখ্যানিক হিসাব করলে দেখা যায়, বিগত মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার সামগ্রিকভাবে কমে গেছে ২৬ দশমিক ৭০ শতাংশ পয়েন্ট, যা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষার প্রশাসনিক তদারককারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন সার্বিক আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয়াদি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, গত ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় সারা দেশের মতো একযোগে রাজশাহী বোর্ডেও এসএসসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ফল ঘোষণার পর নিয়ম মোতাবেক সংক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মোবাইল খুদে বার্তার মাধ্যমে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। উক্ত আবেদনের নির্ধারিত শেষ তারিখ ও সময় ছিল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েছে।

তিনি আবেদনপত্রের ধরন ও বিষয়ভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর্যালোচনায় সবচেয়ে বেশি আবেদনের সংখ্যা দেখা গিয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়েছে গণিত বিষয়ে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। তবে জমা হওয়া আবেদনগুলো বিষয় কোড অনুযায়ী সিস্টেমে সংরক্ষিত হওয়ায় এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়ে কতটি আবেদন পড়েছে, তা পৃথকভাবে বলা যাচ্ছে না।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসির ফলাফলে এমন বড় ধরনের অস্বাভাবিক নিম্নমুখী বিপর্যয়ের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এত বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় পুরো রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, সচেতন শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর