সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন সংরক্ষণের মাধ্যমে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা এসব স্থাপনা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের বেহুলা লক্ষিন্দারের বাবার বাড়ি, শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)-এর মাজার শরীফ, বারুহাঁসের ইমামবাড়ী এবং পৌর শহরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, এসব স্থাপনা শুধু একটি এলাকার সম্পদ নয়, বরং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এগুলো সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সুধী সমাজ ও সংশ্লিষ্টদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
মতবিনিময় সভায় তাড়াশের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে প্রশাসনের সঙ্গে সুধী সমাজের সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। তালিকা তৈরির পর পর্যায়ক্রমে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন সংস্কার ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় তাড়াশ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন গোস্বামী, সদস্য সচিব আব্দুল বারিক খন্দকার, যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, আবুল হোসেন, যুব দলের আহ্বায়ক এফ এম শাহ আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম সরকারি সব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে কর্মকর্তা ও সুধী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা থাকলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ সময় তিনি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন কুঁড়ির প্রতিযোগিতা এবং প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও এসব কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সুধীজন ও সরকারি কর্মকর্তারা জেলার উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে বিভিন্ন মতামত দেন। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।