খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের কাজীবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ ভেসে এসে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার সকালে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলতলা এলাকায় সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের ঠিক পেছনে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন জেলে কাজীবাছা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরতে যান। এ সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। পরে উৎসুক জনতা ভিড় জমায় এবং বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ ও রূপসা নৌ-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে রূপসা নৌ-পুলিশের একটি ক্ষিপ্র উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নৌ-পুলিশের সদস্যরা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং এর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, পানির স্রোতে ভেসে আসা মরদেহটির পরিচয় ও বয়স তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এটি কোনো হত্যাকাণ্ড নাকি নদীতে ডুবে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা—তাও প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায়নি।
নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহটি সম্পূর্ণ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। নিহতের সঠিক পরিচয় শনাক্তের জন্য আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এদিকে মরদেহটি কাজীবাছা নদীর ওই স্থানে কীভাবে ভেসে এলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা।