গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর বসতবাড়ি ও দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এসএম সরওয়ার হোসেন (৬১) নামে এক ব্যক্তি থানায় এজাহার দিয়েছেন। তাঁর দাবি, হামলা ও লুটপাটে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ এজাহার দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী এসএম সরওয়ার হোসেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত রাজিব উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে সরওয়ার হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বসতবাড়ি ও দোকানঘর ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ২৬ জন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি, ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ফজলুল হক, ছকু মিয়া ও সাজু মিয়া তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা বসতঘর ও দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
এজাহারে সরওয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় সুজন মিয়া, ফরিদ মিয়া ও জসিম মিয়া তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে কাঠের আলমারির তালা ভেঙে ড্রয়ারে রাখা ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যান। বাড়ি নির্মাণের জন্য অবসর গ্রহণের পর ওই টাকা তুলে রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এছাড়া আলমারিতে থাকা প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ টাকা, সুজন মিয়া নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জলিল মিয়া, জাকির মিয়া, জাহিদ মিয়া, আয়নাল হক ও লিচু মিয়া ভাড়াটিয়া দোকানে ঢুকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। লুট হওয়া মালামালের মধ্যে সিগারেট, কোমলপানীয়, বিস্কুট, পানির বোতল, দই ও কেকসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নাজমুল মিয়া, শফিকুল মিয়া, নজরুল মিয়া, মামুন মিয়া, মাসুদ মিয়া, আনছার মিয়া ও সুরুজ মিয়া পূর্ব পাশের ঘরের প্রায় ৬ ফুট টিনের একটি বারান্দা ও তিনটি কংক্রিটের সিঁড়ি খুলে নিয়ে যান। এসবের আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় সরওয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরওয়ার হোসেনের দাবি, সুন্দরগঞ্জ মৌজার জেএল নম্বর-৪১, সাবেক খতিয়ান-১৮৯, ডিপি খতিয়ান-১২২৮, খারিজ খতিয়ান-১১৬১/১ এবং সাবেক দাগ নম্বর-৭৮৪ ও ৭৮১-এর জমি তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত। ওই জমিতে তাঁর বসতবাড়ি ও দোকানঘর রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরওয়ার হোসেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. জলিল মিয়া। তিনি বলেন, ‘জমি পাই। এ নিয়ে অভিযোগও করা হয়েছে। তারপরও তারা বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। সেটি নিষেধ করতে গিয়েছিলাম মাত্র।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি এজাহার পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’