জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান মাম্মী (৩৪) নামের এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইসরাত জাহান মাম্মী জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। এই দম্পতির একটি দশ বছর বয়সী কন্যাসন্তান ও একটি ছোট ছেলেসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাওসার আহমেদ শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় একটি মনোহরি দোকান পরিচালনা করতেন। তাঁরা পরিবার নিয়ে গত প্রায় এক মাস ধরে ইব্রাহিম হোসেনের মালিকানাধীন ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত।
গতকাল শনিবার রাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন তাঁদের দুই সন্তানকে কৌশলে অন্য একটি ঘরে আটকে রেখে প্রদীপ নিভিয়ে স্ত্রী ইসরাত জাহানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্ত কাওসার তাঁর আটকে রাখা দুই সন্তানকে উদ্দেশ্য করে ‘আমি চলে গেলাম’ বলে ঘরের বাইরে থেকে মূল দরজায় শক্ত করে তালা দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। পরবর্তীতে বাবা চলে গেলে দুই শিশু সন্তান ঘর থেকে বের হতে না পেরে এবং তাদের মাকে নিচ্ছল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জানালার পাশে গিয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে।
শিশুদের আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে ভবনের আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে দেখতে পান বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তান সামিয়া আক্তার সিনহা জানায়, তার বাবার সাথে অন্য এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তার মা ও বাবার মধ্যে সব সময়ই তুমুল ঝগড়া হতো। শনিবার রাতেও একই ইস্যুতে ঝগড়া হলে তার বাবা তাদের অন্য ঘরে আটকে রাখেন। সকালে বাবা বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে চলে যাওয়ার পর তারা জানালা দিয়ে কান্নাকাটি করে সাহায্য চায়।
এদিকে বাসার মালিক ইব্রাহিম হোসেন স্বীকার করেন, পরিবারটি মাত্র এক মাস হলো তাঁর বাসায় ভাড়া এসেছিল। বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র না নেওয়া তাঁর একটা বড় ভুল হয়েছে বলে তিনি আফসোস প্রকাশ করেন।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটিকে সুনির্দিষ্ট একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতের গলায় সুরতহাল দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।