সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ২৫ বিঘা পৈতৃক জমির চিংড়ি ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও ১০ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফারজানা কাদের অরিন নামে এক নারী।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহরের সুলতানপুর এলাকার মৃত ফজলুল কাদেরের মেয়ে ফারজানা কাদের অরিন এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা থানার বালিখা ও বিল শিমুলবাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত ধাপার ঘেরে এসএ খতিয়ান নং ৯, ২০১, ১৭, ১৫, ৭৮, ৭৯, ৮০, ১২৪, ৩১, ৫৮, ৩৩, ৯৮, ১১৫ সহ অন্যান্য এবং বিএস খতিয়ান নং ১৬৯, ১১০, ২৬৭, ১৭০, ১৭১, ১৪০, ৭১, ১১১, ১১৯ সহ অন্যান্য মিলিয়ে মোট ৮ দশমিক ৩৩ একর সম্পত্তি তাদের পৈতৃক।
ফারজানা কাদের অরিনের দাবি, তার বাবা ফজলুল কাদের ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর তার মা ও তিন ভাই-বোন অসহায় হয়ে পড়লে দাদা আবুল কাশেম এবং তার ওয়ারিশ শরিফুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন গায়ের জোরে ওই পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করতে থাকেন। জমির হারির টাকা কিংবা প্রাপ্য অংশ চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে তারা পৈতৃক সম্পত্তিতে বৈধ অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ওই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বাগদা ও গলদা চিংড়ির চাষ করে আসছিলেন তারা। তবে শরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা জমি দখলের জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন অরিন।
তিনি আরও বলেন, বৈধ সম্পত্তির দখল মেনে নিতে না পেরে শরিফুল ইসলামের মাতা তাহমিনা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পরবর্তী সময়ে জজকোর্ট হয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আদালত বাদীর মামলাটি খারিজ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
অরিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৯ মে বাদীপক্ষ সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির আবেদন করে। তবে হাইকোর্টের ‘স্ট্রে অর্ডার’ বহাল থাকায় ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপরও বাদীপক্ষ পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে আসছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অরিন অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এবং তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শরিফুলের ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলামের ইন্ধনে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল গত ১৮ আগস্ট সকালে তাদের ২৫ বিঘার মাছের ঘেরে হামলা চালায়।
তার দাবি, হামলাকারীরা ঘেরের পাহারাঘর ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করে। পরে ঘের থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার গলদা ও বাগদা চিংড়ি লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হলে অবশিষ্ট মাছও মারা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অরিন আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে শরিফুল, আলমগীর, তুহিন ও জামায়াত নেতা বনি আমিনের নেতৃত্বে সদরের শিমুলবাড়িয়া এলাকায় তাদের আরও ৭ বিঘার একটি ঘেরে হামলা ও লুটপাট করা হয়।
তিনি বলেন, “আদালত এবং মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। পক্ষান্তরে শরিফুল ও আলমগীর গংরা আইন আদালত অমান্যকারী। তাদের আইনের আওতায় এনে আমরা যাতে আমাদের পৈতৃক ২৫ বিঘা সম্পত্তির চিংড়ি ঘের রক্ষা করতে পারি, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ফারজানা কাদের অরিন।