জানা গেছে, কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বিতরণের জন্য চুয়াডাঙ্গা বিএডিসি গোডাউন থেকে সার এনে সদর উপজেলা চত্বরে রাখা হয়েছিল। তবে এসব সার নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ না করে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়। সেখান থেকেই ৫৪ বস্তা সার গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে।
রোববার সকালে নির্ধারিত সময়ে প্রণোদনার সার নিতে সদর উপজেলা চত্বরে উপস্থিত হন কৃষকেরা। তাদের কাছ থেকে সার গ্রহণের জন্য স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, বরাদ্দের ৫৪ বস্তা সার চুরি হয়ে গেছে। এ কারণে কৃষকদের পরদিন এসে সার নেওয়ার জন্য বলা হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণের জন্য উপজেলা চত্বরে এনে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে চুরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সার না পেয়ে তাদের একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, অন্যদিকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর চুরির বিষয়টি জানানোয় তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এদিকে গায়েব হয়ে যাওয়া ৫৪ বস্তা সারের পাশাপাশি উপজেলা চত্বরে থাকা অবশিষ্ট সার নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। অরক্ষিত অবস্থায় থাকা এসব সার বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, কৃষকদের প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি চলছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, কৃষি কর্মকর্তা তাকে সার চুরির বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রণোদনার সার গায়েবের ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কীভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হলো এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।